২০ দেশে ফ্লাইট চালুর লক্ষ্য, যুক্ত হচ্ছে একুশ নতুন উড়োজাহাজ

সময়ের আলো ডেস্ক

বিবিধ

২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বিশ্বের ২০টি দেশের ৩০টি গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ইউএস–বাংলা এয়ারলাইন্স। একই সময়ে বহরে যুক্ত

2026-07-19T22:25:42+00:00
2026-07-19T23:32:04+00:00
 
  সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬,
৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
বিবিধ
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের এক যুগ
২০ দেশে ফ্লাইট চালুর লক্ষ্য, যুক্ত হচ্ছে একুশ নতুন উড়োজাহাজ
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ১০:২৫ পিএম  আপডেট: ১৯.০৭.২০২৬ ১১:৩২ পিএম
ইউএস–বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন। ছবি : সংগৃহীত
২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বিশ্বের ২০টি দেশের ৩০টি গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ইউএস–বাংলা এয়ারলাইন্স। একই সময়ে বহরে যুক্ত হবে ২১টি নতুন উড়োজাহাজ। পাশাপাশি একটি ফুল-সার্ভিস ক্যারিয়ার এবং একটি লো-কস্ট ক্যারিয়ার (এলসিসি) পরিচালনারও পরিকল্পনা নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

রোববার (১৯ জুলাই) ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের এক যুগ পূর্তি অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন এসব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ২০১৪ সালে যাত্রা শুরুর পর ইউএস–বাংলা বর্তমানে দেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি বিমান পরিবহন সংস্থায় পরিণত হয়েছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি দেশের ছয়টি অভ্যন্তরীণ এবং ১০টি দেশের ১৪টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে। আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক আরও সম্প্রসারণ করে ২০টি দেশের ৩০টি গন্তব্যে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।

এমডি জানান, ইউএস–বাংলা গ্রুপের অধীনে দুটি আলাদা এয়ারলাইন্স পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর একটি হবে পূর্ণাঙ্গ সেবাভিত্তিক (ফুল-সার্ভিস) ক্যারিয়ার এবং অন্যটি হবে স্বল্প খরচের (লো-কস্ট) ক্যারিয়ার। এতে বিভিন্ন ধরনের যাত্রীদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন সেবার সুযোগ তৈরি হবে। এ বিষয়ে আগামী ২৯ তারিখ রাজধানীর হোটেল শেরাটনে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি, মার্কিন রাষ্ট্রদূতসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন। 

মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ইউএস–বাংলার বহরে ২১টি ব্র্যান্ড নিউ এয়ারক্রাফট যুক্ত হবে। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে প্রথম বেসরকারি এয়ারলাইন্স হিসেবে অভ্যন্তরীণ রুটে নতুন উড়োজাহাজ দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল ইউএস–বাংলা। সেই ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক রুটেও নতুন উড়োজাহাজ পরিচালনা করা হবে।

তিনি জানান, নতুন প্রজন্মের এসব উড়োজাহাজে থাকবে ওয়্যারলেস স্ট্রিমিং, ইন-ফ্লাইট ইন্টারনেট এবং প্রতিটি আসনে মোবাইল চার্জিং সুবিধা। বিশ্বের অনেক এয়ারলাইন্স এসব সেবার জন্য অতিরিক্ত অর্থ নিলেও ইউএস–বাংলা যাত্রীদের বিনামূল্যে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ দিতে চায়, যাতে আকাশে থেকেও তারা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারেন। তার ভাষায়, ২০২৭ সালের ইউএস–বাংলার পণ্য ও সেবার মান হবে একটি ‘গ্লোবাল প্রোডাক্ট’।


তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ইউএস–বাংলার বহরের উড়োজাহাজগুলোর গড় বয়স প্রায় ১০ বছর। তুলনামূলকভাবে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের বহরের গড় বয়সও প্রায় ১০ বছর এবং এমিরেটসের প্রায় ১২ বছর। তাই বাংলাদেশি এয়ারলাইন্স মানেই পুরোনো বিমান— এমন ধারণার কোনো ভিত্তি নেই।

বাজার পরিস্থিতি তুলে ধরে এমডি বলেন, বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরীণ এভিয়েশন মার্কেটে ইউএস–বাংলা ও এয়ার অ্যাস্ট্রা মিলিয়ে প্রায় ৭৫ শতাংশ মার্কেট শেয়ার রয়েছে। প্রতিদিন প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৯৪টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনা করে, যা মাসে প্রায় ২ হাজার ৬০০টি ফ্লাইটে দাঁড়ায়। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক রুটে প্রতিদিন প্রায় ৩০টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়। ফলে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক মিলিয়ে প্রতি মাসে ইউএস–বাংলা প্রায় সাড়ে ৩ হাজার ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ায় কলকাতা, চেন্নাই, মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কায় ফ্লাইট পরিচালনা করছে ইউএস–বাংলা। স্বাধীনতার পর প্রথম বাংলাদেশি বেসরকারি এয়ারলাইন্স হিসেবে চেন্নাইয়ে সরাসরি ফ্লাইট চালু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। মূলত চিকিৎসাসেবার কথা বিবেচনা করেই এই রুট চালু করা হয়। আগে যাত্রীদের কলকাতা হয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে চেন্নাই যেতে হতো। বর্তমানে সরাসরি ফ্লাইটের কারণে রোগী ও তাদের স্বজনদের ভোগান্তি অনেক কমেছে। তিনি এ রুটকে ইউএস–বাংলার জন্য একটি ‘ব্লেসিং ফ্লাইট’ বলে উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটি কোনো অতিরিক্ত চার্জ ছাড়াই এয়ার অ্যাম্বুলেন্স লিফট সেবা দিচ্ছে। অথচ বিশ্বের অনেক দেশে একই ধরনের সেবার জন্য ৫০০ ডলার বা তারও বেশি অর্থ নেওয়া হয়।


মালদ্বীপ রুট নিয়েও কথা বলেন ইউএস–বাংলার এমডি। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর প্রথম বাংলাদেশি ক্যারিয়ার হিসেবে ইউএস–বাংলা মালদ্বীপে ফ্লাইট চালু করে। সেখানে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অতিরিক্ত বিমানভাড়ার কারণে তারা দুই-তিন বছরেও দেশে ফিরতে পারতেন না। পরে ভাড়া কমিয়ে প্রায় ৩৫ হাজার টাকায় নামিয়ে আনার ফলে এখন তারা তুলনামূলক সহজে দেশে আসতে পারছেন।

তিনি বলেন, বেঙ্গালুরু রুট চালুর অন্যতম কারণ ছিল চিকিৎসাসেবা। কারণ বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি রোগী, বিশেষ করে শিশুরা চিকিৎসার জন্য সেখানে যান।

এমডি জানান, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বর্তমানে ব্যাংকক, সিঙ্গাপুর ও কুয়ালালামপুরে ফ্লাইট পরিচালনা করছে ইউএস–বাংলা। আগামী বছর ফুকেট ও ব্রুনাই যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া পূর্ব এশিয়ায় দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তুতি চলছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে প্রয়োজনীয় দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সম্পন্ন হলে সেখানে ফ্লাইট শুরু করা হবে।


মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে কাতার, ওমান, দুবাই, শারজাহ, আবুধাবি, জেদ্দা ও রিয়াদে ফ্লাইট পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। আগামী বছর দাম্মাম ও মদিনা রুটও যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া স্বাধীনতার পর প্রথম বাংলাদেশি বেসরকারি এয়ারলাইন্স হিসেবে চীনে ফ্লাইট পরিচালনার কৃতিত্বও ইউএস–বাংলার।

মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রতিবছর ইউএস–বাংলা বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (সিএএবি) প্রায় ৫০০ কোটি টাকা রাজস্ব দেয়। তার মতে, বাংলাদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর আন্তর্জাতিক বাজারে অংশগ্রহণ বাড়ানো গেলে হাজার হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা দেশে রাখা সম্ভব হবে, যা বর্তমানে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর মাধ্যমে বিদেশে চলে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ইউএস–বাংলা সম্প্রতি বিশ্বের প্রায় ৭০০টি আইএটিএ সদস্য এয়ারলাইন্সের মধ্যে আইএটিএ গ্রাউন্ড অপারেশনস সেফটি অডিট (আইজিওএম)-এর স্বীকৃতি অর্জন করেছে, যা বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে টার্কিশ এয়ারলাইন্স, কাতার এয়ারওয়েজসহ বিশ্বের শীর্ষ এয়ারলাইন্সগুলোর মান অনুসরণ করা হচ্ছে। সিমুলেটর প্রশিক্ষণ, গ্রাউন্ড কোর্স এবং রিক্রুটমেন্ট— সব ক্ষেত্রেই আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা হচ্ছে।

পাইলট তৈরির বিষয়ে তিনি বলেন, দুই বছর আগে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর মাধ্যমে নির্বাচিত ৫০ জন মেধাবী তরুণকে বিদেশে পাইলট প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও ২০০ জন বাংলাদেশি তরুণকে বিদেশে প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তার ভাষায়, বাংলাদেশে একজন পাইলট তৈরি করতে দেড় থেকে দুই বছর সময় লাগে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে সারা বছর উড্ডয়ন উপযোগী আবহাওয়া থাকায় মাত্র নয় মাসেই একজন পাইলটকে প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব।


সময়ের আলো/ইউএমএইচ



  বিষয়:   ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস  ফ্লাইট 


Loading...
Loading...
বিবিধ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: