দেশে শিল্প উৎপাদন ও বিনিয়োগে ধীরগতির প্রভাব পড়েছে আমদানিতেও। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ব্যাংকিং চ্যানেলে আমদানি নিষ্পত্তির পরিমাণ আগের অর্থবছরের তুলনায় মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ বেড়ে ৭০ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগের অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ৭০ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ ইকোনমিক ইন্ডিকেটরস প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। তবে আমদানি নিষ্পত্তি স্থবির থাকলেও ভবিষ্যৎ চাহিদার ইঙ্গিত দিয়ে ঋণপত্র (এলসি) খোলার পরিমাণ ৭ শতাংশ বেড়ে ৭৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
খাতভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, শিল্পের কাঁচামাল আমদানি ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ কমে ২৩ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। একই সময়ে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের অন্যতম সূচক মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি ১০ দশমিক ৬৮ শতাংশ কমে ১ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এ ছাড়া ভোগ্যপণ্য আমদানি প্রায় ৭ শতাংশ কমে ৬ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার এবং মধ্যবর্তী পণ্য (ইন্টারমিডিয়েট গুডস) আমদানি প্রায় ৭ শতাংশ কমে ৪ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। তবে ব্যতিক্রম ছিল জ্বালানি তেল। এ খাতে আমদানি নিষ্পত্তি ৬ দশমিক ৪২ শতাংশ বেড়ে ১০ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, জাতীয় নির্বাচন ঘিরে অনিশ্চয়তা, উচ্চ সুদহার এবং বড় কয়েকটি শিল্পগোষ্ঠীর আর্থিক সংকটের কারণে ব্যবসায়িক আস্থা কমে গেছে। ফলে অনেক কারখানা উৎপাদন কমিয়েছে বা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি আমদানির চাহিদাও কমেছে।
এর প্রভাব রফতানিতেও পড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পণ্য রফতানি শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ কমে ৪৮ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৪৮ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে তৈরি পোশাক খাত থেকে এসেছে ৩৮ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার।
অন্যদিকে রেমিট্যান্সে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক খাতকে শক্তিশালী করেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় এসেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং নিয়ন্ত্রিত আমদানির কারণে চলতি হিসাবের ঘাটতি কমেছে এবং বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এক বছরে ২৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৩২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি