নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং যৌতুক আইনের অপব্যবহারের মাধ্যমে পুরুষদের হয়রানির অভিযোগ তুলে তাদের সুরক্ষায় ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ নামে পৃথক আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় ১৪৫ নম্বর ক্রমিকে রিটটি শুনানির জন্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এর আগে গত মে মাসে বাটারফ্লাই হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কাজী ইলিয়াসুর রহমান এবং সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মো. খলিলুর রহমান জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেন।
মঙ্গলবার গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে আইনজীবী কাজী ইলিয়াসুর রহমান বলেন, দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে পৃথক আইন থাকলেও নির্যাতনের শিকার পুরুষদের সুরক্ষায় নির্দিষ্ট কোনো আইন নেই। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই তারা বিচার ও প্রতিকার থেকে বঞ্চিত হন। সংবিধানে সমঅধিকারের নীতির আলোকে পুরুষদের সুরক্ষায় একটি ভারসাম্যপূর্ণ আইন প্রণয়ন প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
রিট আবেদনে বলা হয়েছে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং যৌতুক আইনের অপব্যবহারের মাধ্যমে পুরুষদের অযথা হয়রানি থেকে রক্ষায় ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ প্রণয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, সে মর্মে রুল জারির আবেদন জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে পুরুষদের অপ্রয়োজনীয় হয়রানি থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পৃথক আইন প্রণয়নের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, সে বিষয়েও রুল চাওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া রিটের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পুরুষদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ প্রণয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, আইনসচিব এবং আইন কমিশনের চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়েছে।
সময়ের আলো/এসএকে