ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর অনশন ও অবস্থান কর্মসূচি নিয়ে দেশটির বিরোধী শিবিরের ভেতরের ফাটল প্রকাশ্যে এসেছে। অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি অভিযোগ করেছে, রাহুলের এই একক প্রতিবাদ মূলত শিক্ষার্থীদের চলমান স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনকে দুর্বল করার একটি চেষ্টা।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) আম আদমি পার্টির নেতা সোমনাথ ভারতী ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভিকে বলেন, ‘রাহুল গান্ধী এই ইস্যুটিকে দুর্বল করার চেষ্টা করছেন। বিজেপি ও কংগ্রেস একজোট হয়ে আন্দোলন ভেস্তে দিতে চাইছে। রাহুল গান্ধী যদি সত্যিই শিক্ষার্থীদের সমর্থন করতে চান, তবে তার উচিত যন্তর মন্তরে যাওয়া।’
অন্য দিকে, আপের আরেক বিধায়ক সৌরভ ভরদ্বাজ অভিযোগ করে বলেন, ‘মোদি সরকার এক মাস ধরে চলা ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনকে পাত্তা দেয়নি, যন্তর মন্তরে কেউ গিয়ে তাদের সঙ্গে দেখা পর্যন্ত করেনি। অথচ রাহুল গান্ধী মাত্র এক ঘণ্টা বসতেই দুইজন মন্ত্রী ও দুইজন সচিব তার সঙ্গে দেখা করতে চলে এলেন! তিনি যন্তর মন্তরে না গিয়ে ১০০ জন মানুষকে নিয়ে নিজের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বলছেন।’
তবে আপের এই সমালোচনাকে খণ্ডন করে রাহুলের পাশে দাঁড়িয়েছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। অরাজনৈতিক এই আন্দোলনটি একটি ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ হিসেবে শুরু হলেও বর্তমানে ভারতে তরুণদের এক বিশাল আন্দোলনের রূপ নিয়েছে।
আপের মন্তব্যের জবাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ সিজেপি জানায়, ‘জাতীয় ঐক্যের ওপর আঘাত হানবেন না এবং বিভ্রান্তি ছড়াবেন না! আজ কংগ্রেস আমাদের আন্দোলনকারীদের জন্য প্রাতরাশ তৈরি করে দিয়েছে, তারা আমাদের সাহায্য করছে। রাহুল গান্ধী যা করেছেন, তাতে পুরো দেশের চাপ সরকারের ওপর তৈরি হয়েছে। বিরোধী দলনেতা হিসেবে তিনি তার দায়িত্বই পালন করছেন।’
উল্লেখ্য, মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষা 'নীট-ইউজি ২০২৬'-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি লাঠিচার্জের প্রতিবাদে মঙ্গলবার দিল্লির লোক কল্যাণ মার্গে মোদির বাসভবন ঘেরাও করতে যান রাহুল গান্ধী। তবে আপের কটাক্ষের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দিল্লি পুলিশ রাহুল গান্ধীকে জোরপূর্বক সেখান থেকে তুলে নিয়ে আটক করে।
এদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক।
সময়ের আলো/কহু