হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ পৌর এলাকার লঞ্চ টার্মিনাল সড়কসংলগ্ন ৫ কোটি টাকার সরকারি ভূমি দখল করে বহুতল ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ নিয়ে দৈনিক সময়ের আলোতে সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে উপজেলা প্রশাসন। বিতর্কিত ৩৪ নম্বর দাগের খাস জমি চিহ্নিতকরণ ও পরিমাপের জন্য ইতোমধ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সরকারি ভূমি সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে তহশিলদার ও সার্ভেয়ারকে মাপজোখের চূড়ান্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইউএনও-র নির্দেশে বহুতল ভবনটির নির্মাণকাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে আজমিরীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রেজাউল করিম বলেন, সরকারি ভূমি সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করতে তহশিলদার ও সার্ভেয়ারকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিমাপ শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মাসুদ রানা জানান, এসএ রেকর্ড থেকে আরএস খতিয়ানে কীভাবে এবং কার নামে ভূমির মালিকানা পরিবর্তন হয়েছে, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হবে। এরপর মাপজোখের মাধ্যমে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি ও সরকারি খাস জমির সীমানা নির্ধারণ করা হবে।
সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) আবুল কালাম চৌধুরী বলেন, আগামী সপ্তাহে সরেজমিনে ওই ভূমিতে গিয়ে পরিমাপ করা হবে। বর্তমানে ইউএনও স্যারের নির্দেশে নির্মাণাধীন ভবনটির কাজ স্থগিত রাখা হয়েছে।
এসএ রেকর্ড অনুযায়ী, ৩৪ নম্বর দাগে মোট ৮ একর ১২ শতক ভূমি রয়েছে, যার মধ্যে সরকারি খাস ভূমির পরিমাণ ১ একর ৮২ শতক। বর্তমানে ওই এলাকায় প্রতি শতক জমির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় আড়াই লাখ টাকা। সেই হিসাবে এই খাস জমির আনুমানিক মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ কোটি টাকা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ দিন ধরে একটি স্বার্থান্বেষী মহল ৩৪ নম্বর দাগের খাস জমি ও পুরোনো খালের অংশ ভরাট করে দখলে নিয়েছে। কোথাও দোকানপাট, কোথাও বসতবাড়ির ভিটা এবং সর্বশেষ একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছিল।
আজমিরীগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল সড়কসংলগ্ন এ এলাকায় প্রায় এক যুগ আগেও একটি বড় খাল ছিল, যেখানে লঞ্চ ও বড় বড় নৌকা নোঙর করত। ২০১৭ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ নির্মাণের পর থেকে খালটি ধীরে ধীরে ভরাট ও বেদখল হতে থাকে। বর্তমানে খালের বড় অংশের কোনো অস্তিত্বই নেই।
দৈনিক সময়ের আলোতে সংবাদ প্রকাশের পরপরই প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে স্থানীয়দের দাবি— খাস জমি ও খালের জায়গা দখলের বিষয়টি ধামাচাপা দিতে প্রভাবশালী দখলদাররা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে।
এলাকাবাসীর একটাই দাবি, কোনো চাপের কাছে নতিস্বীকার না করে নিরপেক্ষ মাপজোখের মাধ্যমে সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করতে হবে। পাশাপাশি খাস জমি ও খাল দখলের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সময়ের আলো/জোই