বাঁশখালীতে শাশুড়ি ও বউয়ের ঝগড়া থামাতে গিয়ে প্রতিবেশীর কাঠের লাঠির আঘাতে মোহাম্মদ রাশেদ (৩৫) নামে যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার সকাল ৬টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত গৃহবধূ জমিলা আক্তারকে (৩০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
নিহত রাশেদ বাঁশখালী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জঙ্গল জলদি গ্রামের মো. নুরুল আলমের ছেলে। অন্যদিকে গ্রেফতার জমিলা আক্তার একই এলাকার প্রবাসী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার দুপুরে বাঁশখালী পৌরসভার ধূইল্যাঝিরি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার সকালে দুষ্টুমির কারণে নাতনিকে বেত দিয়ে শাসন করেন হোসনে আরা বেগম (৬০)। এ নিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে তার ওপর চড়াও হন জমিলা আক্তার। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে হোসনে আরা বেগমকে রক্ষা করতে এবং ঝগড়া থামাতে এগিয়ে যান প্রতিবেশী রাশেদসহ স্থানীয় কয়েকজন।
অভিযোগ রয়েছে, ঝগড়ার একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে জমিলা আক্তার একটি কাঠের বাটাম দিয়ে রাশেদের মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চমেক হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বুধবার সকালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ফরিদা বেগম ও রুফিয়া বেগমসহ আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে স্বামী হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন নিহত রাশেদের স্ত্রী জেসমিন আক্তার। স্থানীয়দের দাবি, জমিলা আক্তার দীর্ঘ চার থেকে পাঁচ বছর ধরে তার স্বামী মো. আব্দুল্লাহ প্রবাসে থাকার সুযোগে শাশুড়ি হোসনে আরা বেগমকে বিভিন্ন সময় নির্যাতন করে আসছিলেন। পারিবারিক বিরোধ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিচার-সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হলেও বিরোধ পুরোপুরি থামেনি বলে জানিয়েছেন তারা।
বাঁশখালী থানার ওসি মো. রবিউল হক বলেন, নিহত রাশেদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত জমিলা আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় রাশেদের স্ত্রী জেসমিন আক্তার বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।
সময়ের আলো/এনএন