গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় একটি খাল পুনর্খনন প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত মান বজায় রেখে সম্পন্ন করার পর অব্যবহৃত ৪১ লাখ ৯০ হাজার ৮২৮ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এ বিষয়ে নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, সঠিক পরিকল্পনা ও নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে বরাদ্দের চেয়ে কম ব্যয়ে কাজটি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।
সরকারি অর্থ জনগণের আমানত :
ইউএনও আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কথায়, সরকারি অর্থ জনগণের আমানত হিসেবে বিবেচনা করেই প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাজ শেষে অবশিষ্ট অর্থ কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। ইউএনও আরও বলেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি এবং জনগণের কল্যাণে বরাদ্দকৃত প্রতিটি টাকার সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করাই প্রশাসনের অঙ্গীকার।
যেভাবে শুরু প্রকল্পের কাজ :
উপজেলার হরিনাথপুর ইউনিয়নের নাকাই খাল দীর্ঘদিন ধরে দখল ও পলি জমে ভরাট হয়ে পড়েছিল, যার ফলে এলাকায় পানি চলাচলে দেখা দিচ্ছিল নানা প্রতিবন্ধকতা। এই সমস্যা সমাধানে সরকার খালটি পুনর্খননের জন্য ২ কোটি ৬ লাখ ৩ হাজার ৮০ টাকা বরাদ্দ দেয়।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১২ মে কাজ শুরু হয়ে প্রায় তিন মাসের মধ্যে তা সম্পন্ন হয়। প্রকল্পের আওতায় ৪ দশমিক ৯২০ কিলোমিটার দীর্ঘ খাল পুনর্খনন করা হয়। খালের দুই ধারে নারিকেল, জাম, আম, নিমসহ মোট ১ হাজার ৪৪০টি গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে প্রশাসন।
ব্যয় হয়েছে বরাদ্দের চেয়ে কম :
পিআইও কার্যালয়ের তথ্যমতে, মোট বরাদ্দ থেকে শ্রমিক মজুরি, যন্ত্রপাতি ব্যবহার, পরিবহন ও আনুষঙ্গিক খাতে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৬৪ লাখ ১২ হাজার ২৫২ টাকা। কাজ শেষে সব বিল পরিশোধের পরও অবশিষ্ট থাকে ৪১ লাখ ৯০ হাজার ৮২৮ টাকা, যা সরকারি বিধি অনুযায়ী কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) একাধিক সদস্য জানান, সদ্য বিদায়ি ইউএনও শেখ জাবের আহমেদ নিয়মিত প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং কাজের স্থান পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তার তত্ত্বাবধানেই নির্ধারিত মান বজায় রেখে স্বল্প ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তারা।
কৃষকদের স্বস্তি :
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায় খাল পুনর্খননের চিত্র। এ সময় স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন খালটি ভরাট থাকায় বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকট ছিল নিয়মিত সমস্যা। খাল পুনর্খননের ফলে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হওয়ায় কৃষিকাজে সুবিধা বাড়বে বলে মনে করছেন তারা।
এলাকাবাসী জানান, এই খাল দিয়ে ২০টিরও বেশি বিলের পানি নিষ্কাশিত হয়। আগে জলাবদ্ধতার কারণে অনেক বিলে আমন ধান চাষ করা যেত না। খাল সচল থাকলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি মাছের প্রাকৃতিক আবাসস্থলও পুনরুদ্ধার হবে যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি