দেশে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ আরও সহজ করতে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই বা ফিকি) আয়োজিত ‘এফআইসিসিআই এফডিআই সম্মেলন ২০২৬’-এ বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি ও মূলনীতি রয়েছে। সরকার এমন একটি নিবিড় ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে চায়, যা একই সাথে সাধারণ মানুষের ক্ষমতায়ন ঘটাবে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমিয়ে বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
‘বাংলাদেশে কর্মসংস্থান ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বৈদেশিক বিনিয়োগ ত্বরান্বিতকরণ’ শীর্ষক এ সম্মেলনের মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মূল অনুষ্ঠানের পূর্বে প্রধানমন্ত্রী ‘ইনভেস্টরস এক্সপো’ ঘুরে দেখেন এবং অংশগ্রহণকারী সংস্থা ও কোম্পানির প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় করেন।
স্বাগত বক্তব্যে গত ৫ মাস আগে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে আয়োজক সংগঠন ফিকি-কে ধন্যবাদ জানান মাহ্দী আমিন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা তাদের যোগ্যতা, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ পরিকল্পনা সফলভাবে তুলে ধরেছেন।
মাহ্দী আমিন জানান, ফিকি'র প্রাথমিক ভাবনায় বিনিয়োগকারীদের বক্তব্য নীতিনির্ধারকদের শোনার কথা থাকলেও, শেষ মুহূর্তে আগ্রহ ও চাহিদার ওপর ভিত্তি করে নীতিনির্ধারকরাই মূল রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের প্ল্যাটফর্মে উভয় পক্ষ আরও উন্মুক্তভাবে মতামত বিনিময়ের সুযোগ পাবে।
প্রশাসনিক ও দপ্তর বিন্যাসের নতুন পদ্ধতির ব্যাখ্যা দিয়ে উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো একাধিক মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে দপ্তরগুলো পুনর্গঠন করা হয়েছে। নীতি নির্ধারণ থেকে শুরু করে একদম মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন পর্যন্ত প্রক্রিয়াকে দ্রুত, স্বচ্ছ ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতামুক্ত করতেই প্রধানমন্ত্রীর এই দূরদর্শী উদ্যোগ। এর সুফল হিসেবে এরই মধ্যে একটি জনবান্ধব ও বিনিয়োগবান্ধব বাজেট প্রণয়ন সম্ভব হয়েছে।
অতীতে তৈরি হওয়া বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা প্রসঙ্গে মাহ্দী আমিন বলেন, সরকার সব জমাটবদ্ধ সমস্যা সম্পর্কে সচেতন এবং তা ইতিবাচকভাবে সমাধান করতে চায়। প্রতিটি সংকটকে নতুন কর্মসংস্থান ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ‘বাংলাদেশের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক উদ্যোক্তারা কেবল ব্যবসা করছেন না, বরং বিশ্বমঞ্চে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ স্লোগান তুলে ধরছেন। সার্বিক সমৃদ্ধি, সমতা ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে একটি আধুনিক বাংলাদেশ গড়তে সরকার দেশি-বিদেশি সব ব্যবসায়ীর সঙ্গে স্থায়ী ও ধারাবাহিক আলোচনার পরিবেশ বজায় রাখতে চায়।
আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, ফিকি সভাপতি ও বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রূপালী হক চৌধুরী এবং বিডা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। এ ছাড়াও দেশি-বিদেশি প্রায় ৬০০ বিনিয়োগকারী, শীর্ষ কূটনৈতিক, সরকারি কর্মকর্তা এবং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীরা এতে অংশ নেন।
সময়ের আলো/জেডি