এর আগে শুক্রবার বিকেলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বঙ্গভবন ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের উচ্চপর্যায়ের সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
বঙ্গভবন সূত্রে জানা গেছে, সাহাবুদ্দিন আগেই পদত্যাগের মানসিক সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছিলেন এবং বিদায়ের প্রস্তুতি হিসেবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকও করেছিলেন। স্পিকার দেশে না থাকায় পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার প্রক্রিয়াটি বিলম্বিত হচ্ছিল।
সংবিধানের অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন এবং ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান রয়েছে। ফলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত বা দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পদত্যাগের মাধ্যমে দেশের শীর্ষ সাংবিধানিক পদে পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হলো।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে আরও দাবি করা হয়েছে, চলতি বছরের ৯ মে রাষ্ট্রপতি লন্ডনে যান এবং ১৮ মে দেশে ফেরেন। ওই সফরের সময় তিনি শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিষয়টি জানতে পারার পরই তাকে পদত্যাগের বার্তা দেওয়া হয় বলেও খবরে দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে সংবিধান অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফর শেষে দেশে ফিরলে সফর সম্পর্কিত বিষয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি মালয়েশিয়া ও চীন সফর শেষে দেশে ফেরার পর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে নিয়ে নানা মহল থেকে অসন্তোষ দেখা দেয়। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বিভিন্ন সময়ে তার পদত্যাগ ও বিচার দাবি করেছেন। এছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের ভূমিকা নিয়েও নানা অভিযোগ রয়েছে। ফলে এসব বিষয়ে বিবেচনায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ অনিবার্য হয়ে পড়ে।
এদিকে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ শুক্রবার বিকেল পাঁচটায় সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন। সংসদ সচিবালয়ের একজন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে এই সংবাদ সম্মেলন হবে।
ধারণা করা হচ্ছে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের বিষয়ে স্পিকার কথা বলতে পারেন।
স্পিকার আজ দুপুরে ব্যাংকক থেকে ঢাকায় ফেরেন। গত ১৯ জুলাই তিনি স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ব্যাংককে যান। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ঢাকায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্পিকার বলেন, ‘আমি দেশের বাইরে ছিলাম। সুতরাং এখানে কে পদত্যাগ করবেন না করবেন, তা আমার জানা নেই। এখন হয়তো জানতে পারব। যদি তিনি পদত্যাগ করেন, তবে স্পিকারের কাছে করবেন। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে। এটাই সংসদীয় রীতি।’
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদে দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন ৭৫ বছর বয়সি মো. সাহাবুদ্দিন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান ও পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর থেকেই তার পদে থাকা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানামুখী আলোচনা চলছিল, যা শেষ পর্যন্ত তার পদত্যাগের মাধ্যমে সমাপ্ত হলো।