৫০০ টাকার গাছে লাখ টাকা বিল

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বহুল আলোচিত ‘বালিশ-কাণ্ডের’ স্মৃতি ফিরিয়ে এনে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পে উঠে এসেছে নজিরবিহীন

2026-07-25T13:23:37+00:00
2026-07-25T13:24:56+00:00
 
  শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬,
১০ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
শাহজালাল থার্ড টার্মিনাল
৫০০ টাকার গাছে লাখ টাকা বিল
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ১:২৩ পিএম  আপডেট: ২৫.০৭.২০২৬ ১:২৪ পিএম
শাহজালাল থার্ড টার্মিনাল। সংগৃহীত ছবি
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বহুল আলোচিত ‘বালিশ-কাণ্ডের’ স্মৃতি ফিরিয়ে এনে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পে উঠে এসেছে নজিরবিহীন আর্থিক অনিয়মের তথ্য। 

মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) বিশেষ নিরীক্ষা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সাধারণ নার্সারিতে ২০০ থেকে ৫০০ টাকায় পাওয়া চারা গাছের প্রতিটির দাম ধরা হয়েছে ৫ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত। কেবল গাছ কেনাতেই ব্যয় দেখানো হয়েছে প্রায় ২০ কোটি টাকা, যার সাথে পরিচর্যা বাবদ আরও ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা যোগ করা হয়েছে।

সিএজির রিপোর্টে নিয়মবহির্ভূত ও অতিরিক্ত ব্যয়ের লম্বা তালিকা প্রকাশ পেয়েছে। অতিরিক্ত কাজের জন্য সর্বোচ্চ ১ শতাংশ ব্যয়ের সুযোগ থাকলেও নীতিমালার বাইরে গিয়ে প্রায় ২৩ শতাংশ বা ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা কোনো অনুমতি ছাড়াই পরিশোধ করা হয়েছে। 

এ ছাড়া প্রকল্প এলাকায় আগে থেকে থাকা একটি জলাশয় সামান্য সংস্কার করে পুকুর বানানোর নামে ১০ কোটি টাকা এবং সাড়ে ছয় কিলোমিটার দূরে মাটি ফেলার কথা থাকলেও দুই কিলোমিটারের মধ্যে ফেলে বিলের অতিরিক্ত ৮৩ কোটি টাকা পকেটে পুরেছে ঠিকাদার। 

মূল চুক্তিতে কোনো উল্লেখ না থাকা সত্ত্বেও সাবেক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছা পূরণে কেবল ‘সফট ওপেনিং’ বা ফিতা কাটার আয়োজনেই উড়ানো হয়েছে ৪৪ কোটি টাকা। এছাড়া ডিজেল পাম্প সরবরাহে ১২ কোটি টাকা, ইউপিএস সরবরাহে ৪৮ কোটি টাকার বেশি, জ্বালানি তেলে ৪১ কোটি টাকা, ডিজাইন ছাড়া ভবনের জন্য অর্থ প্রদান, কনটিনজেন্সি ও প্রাইস এসকেলেশন থেকে পরামর্শকদের অনিয়মবহির্ভূত ওভারটাইম বিল প্রদান, অপসারণযোগ্য মাটি বিক্রি করে সরকারি কোষাগারে জমা না দেওয়া এবং নির্মাণকাজের গতি বাড়াতে মুভ ফরওয়ার্ড কস্ট হিসেবে ঠিকাদারকে দেওয়া হয়েছে ২১৭ কোটি টাকা। 

আওয়ামী লীগ আমলে জাপানি পরামর্শকদের মাধ্যমে ২০১৭ সালে শুরু হয়ে ২০১৯ সালে কাজ শুরু হওয়া প্রাথমিক ১৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার এই প্রকল্পটির ব্যয় ধাপে ধাপে বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকায়। 

বর্তমানে সিভিল এভিয়েশনের গঠিত ডিসপিউট বোর্ড ও অ্যামিকেবল সেটেলমেন্ট কমিটির মাধ্যমে এসব অনুমোদনহীন অনিয়ম ও ব্যয়কে ‘পোস্ট-ফ্যাক্টো’ বা পরবর্তী অনুমোদনের নামে বৈধ করার চেষ্টা চলছে। তবে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাদেরই কমিটিতে রাখার বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

এই অনিয়মের তীব্র বিরোধিতা করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, অনিয়ম করার পর পরবর্তীতে তা সেটেল করার নামে বৈধতা দেওয়া আরেকটি দুর্নীতির শামিল। 

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম এবং বেবিচকের সাবেক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মোহাম্মদ মফিদুর রহমান নিরপেক্ষ স্বাধীন তদন্ত এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের দাবি জানিয়েছেন। 


অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেবিচকের এক কর্মকর্তা জানান, যথাযথ তদন্ত হলে পর্দার আড়ালের অনেক রাঘববোয়ালের নাম বের হয়ে আসবে। 

এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ভুয়া ভেরিয়েশন ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগসমূহ তদন্ত করা হবে এবং অ্যামিকেবল সেটেলমেন্ট কমিটির দোহাই দিয়ে ছাড় না দিয়ে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সময়ের আলো/জেডি 


  বিষয়:   ৫০০ টাকা  গাছ  লাখ টাকা  বিল  থার্ড টার্মিনাল 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: