গত তিন বছরে সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে জব্দ করা প্রায় ৫১ কোটি ৮৩ লাখ টাকার বেশি মূল্যের বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য ও নেশাজাতীয় পণ্য ধ্বংস করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) সদর দফতরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিজিবির উত্তর-পূর্ব রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী, বিজিবিএম।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, গত তিন বছরে কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) ও সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি) কর্তৃক কুমিল্লা, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জ জেলার আংশিক সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে মালিকবিহীন বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়। জব্দ করা এসব মাদকের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য, ওষুধ ও ইনজেকশন, সিগারেট এবং জর্দা। যার মোট বাজারমূল্য ৫১ কোটি ৮৩ লাখ ৮৪ হাজার ১২৫ টাকা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, মাদক শুধু একটি অবৈধ দ্রব্য নয়, এটি ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ভয়াবহ অভিশাপ। মাদক তরুণ সমাজের স্বপ্ন, মেধা ও ভবিষ্যৎ ধ্বংস করছে। একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি শুধু নিজের জীবনই নয়, বরং তার পরিবার ও সমাজকেও চরম ক্ষতির মুখে ঠেলে দেয়।
তিনি আরও বলেন, বিস্তীর্ণ সীমান্ত ব্যবহার করে অসাধু চক্র বিভিন্ন ধরনের মাদক দেশে প্রবেশ করানোর অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব অপতৎপরতা প্রতিরোধ করা বিজিবির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সীমান্তে বিজিবি সদস্যরা দিন-রাত নিরলসভাবে মাদক চোরাচালান ও অন্যান্য সীমান্ত অপরাধ দমনে কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের সাহসিকতা, পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার ফলেই এত বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ করা সম্ভব হয়েছে।
মাদক নির্মূলে সামাজিক সচেতনতার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, আজ যে মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হলো, তা শুধু কিছু অবৈধ পণ্য ধ্বংস নয়; বরং সমাজকে বিষমুক্ত করার একটি দৃশ্যমান পদক্ষেপ। মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগ একান্ত প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে কুমিল্লা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল রকিবুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার, ৬০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলাম, ১০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর আলী এজাজ, র্যাবের অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সার্কেল পরিদর্শক মো. নজরুল ইসলামসহ বিভিন্ন দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সময়ের আলো/জোই