জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) অনুষ্ঠিতব্য একাডেমিক কাউন্সিলে শিক্ষার্থীবান্ধব সিদ্ধান্ত নেয়া এবং ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)। বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো রেজিস্ট্রার ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা।
জাকসুর ১৩ দফা দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মাস্টার্স পর্যায়ের থিসিস শিক্ষার্থীদের জন্য গবেষণা বৃত্তি চালু, আন্তর্জাতিক জার্নাল ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রাতিষ্ঠানিক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা, সেশনজট নিরসনে কার্যকর একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়ন ও দ্রুত ফলাফল প্রকাশ, প্রাতিষ্ঠানিক ই-মেইলের মেয়াদ বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে নিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি এবং ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রে যন্ত্রপাতিভিত্তিক সার্টিফিকেট কোর্স চালু করা।
এছাড়াও বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষক ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসে জনবল সঙ্কট নিরসন, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শ্রুতিলেখক অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজীকরণ, মানোন্নয়ন পরীক্ষায় জিপিএ ৩.২৫ পর্যন্ত অংশগ্রহণের সুযোগ, চূড়ান্ত পরীক্ষার খাতা পুনর্মূল্যায়ন প্রক্রিয়া চালু, বিশেষ পরিস্থিতিতে অনার্স চূড়ান্ত বর্ষের বিশেষ পরীক্ষা নেয়ার সুযোগ, শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু এবং চূড়ান্ত পরীক্ষার সময়সূচী ১২টা থেকে কমিয়ে ১০টায় আনার দাবি জানানো হয়।
অবস্থান কর্মসূচিতে জাকসুর শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক আবু উবায়দা উসামা বলেন, দীর্ঘ আট মাস পর আজ আমাদের একাডেমিক কাউন্সিল হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে আছে। বারবার একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে পড়ে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো আটকে যাচ্ছে। কোনো কিছুই বাস্তবায়িত হচ্ছে না। দ্রুত দাবি বাস্তবায়নের জন্যই আমাদের আজকের এই অবস্থান কর্মসূচি।
তিনি আরও বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো কার্যকর একাডেমিক ক্যালেন্ডার নেই, যার কারণে ৭৫ দিনের মধ্যে ফলাফল দেয়ার কথা থাকলেও ছয় থেকে দশ মাস পর্যন্ত সময় লেগে যাচ্ছে। এক সেমিস্টার শেষ হয়ে আরেক সেমিস্টারের পরীক্ষা শুরু হলেও আগের ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না। এ ছাড়া ক্যাম্পাসে রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টের কোনো সংস্কৃতি নেই। আমরা চাই প্রাতিষ্ঠানিকভাবে রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট নিয়োগ দেয়া হোক। তাহলে ভালো মানের জার্নাল প্রকাশিত হবে এবং আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান আরও ওপরে যাবে। আমরা আশা রাখছি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দাবিগুলো গুরুত্বের সাথে নিয়ে দ্রুত কার্যকর করার ব্যবস্থা নেবে।
জাকসুর সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক রায়হান উদ্দীন বলেন, ক্যাম্পাসে একাডেমিক সংস্কার শিক্ষার্থীদের অনেক দিনের চাওয়া। আজ আমরা জাকসুর প্যাডের মাধ্যমে একাডেমিক কাউন্সিলের সব সদস্যের কাছে দাবিগুলো পৌঁছে দিয়েছি। আমরা তাদের প্রতি আহ্বান জানাই, যেন এই দাবিগুলো মেনে নিয়ে একাডেমিক সংস্কারের মাধ্যমে একটি শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস তৈরি করা হয়।
সময়ের আলো/আতা