বাবা মারা গেছেন আগের দিন সন্ধ্যায়। বাড়িতে চলছে দাফনের প্রস্তুতি। সেই শোক বুকে নিয়েই পরদিন সকালে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন মাসুমা আক্তার নামের এক পরীক্ষার্থী।
বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে যশোরের বেনাপোল কেন্দ্রের শার্শা উপজেলা কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মাসুমা এই অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দেন। পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফিরে বাবার দাফনকাজে অংশ নেন তিনি।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বেনাপোলের নামাজগ্রামে নিজ বাড়িতে হঠাৎ স্ট্রোক করেন মাসুমার বাবা, মেসার্স তাজমহল ট্রান্সপোর্টের স্বত্বাধিকারী আব্দুস সামাদ (৬৫)। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তিনি মারা যান। তার মৃত্যুতে পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া।
বুধবার সকালে বেনাপোল কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সকাল ১০টার আগেই চোখের পানি মুছতে মুছতে কেন্দ্রে প্রবেশ করেন মাসুমা। সহপাঠী ও দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সহায়তায় তিনি পরীক্ষার হলে আসন গ্রহণ করেন। এক হাতে রুমাল দিয়ে বারবার চোখ মুছছিলেন, অন্য হাতে লিখে যাচ্ছিলেন পরীক্ষার খাতায়। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার প্রায় আধা ঘণ্টা আগে, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে খাতা জমা দিয়ে দ্রুত বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন তিনি।
মাসুমা বলেন, ‘বাবা আমাকে খুব ভালোবাসতেন। সব সময় বলতেন, পড়াশোনা করে অনেক বড় হতে হবে। এই অবস্থায় পরীক্ষা না দিলে বাবার আত্মা কষ্ট পেত। তাই বাবার ইচ্ছাপূরণ করতেই আমি পরীক্ষা দিতে এসেছি।’
বেনাপোল কলেজ কেন্দ্রের কেন্দ্রসচিব ও অধ্যক্ষ কামরুজ্জামান শান্তি বলেন, ‘সকালেই আমরা তার বাবার মৃত্যুর খবর জানতে পারি। শোকের মধ্যেও সে যেন স্বাভাবিকভাবে পরীক্ষা দিতে পারে, সে জন্য আমরা মানসিকভাবে তার পাশে ছিলাম। তাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে।’
শার্শা উপজেলা কলেজের অধ্যক্ষ হাসানুজ্জামান অনুপম বলেন, ‘মাসুমা বিজ্ঞান বিভাগের অত্যন্ত মেধাবী ও নিয়মিত শিক্ষার্থী। এই কঠিন সময়ে শিক্ষক ও সহপাঠীরা তার পাশে দাঁড়িয়েছে। সে যেন বাকি পরীক্ষাগুলোও ভালোভাবে শেষ করতে পারে, সে জন্য আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করছি।’
শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ বলেন, ‘বাবাকে হারানোর কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। এমন গভীর শোকের মধ্যেও মাসুমার দায়িত্ববোধ ও মানসিক দৃঢ়তা প্রশংসার দাবিদার। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা তার খোঁজখবর রাখছি এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার চেষ্টা করছি।’
পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পর জোহরের নামাজের পর স্থানীয় নামাজগ্রাম মসজিদে আব্দুস সামাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে এলাকার শত শত মানুষ, জনপ্রতিনিধি ও আত্মীয়স্বজন অংশ নেন। পরে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
সময়ের আলো/এসএকে