ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের নবীনবরণ উপলক্ষে কনসার্ট আয়োজনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের অবসান হয়েছে। কলেজের মূল ক্যাম্পাসে কনসার্ট না করে দক্ষিণ ক্যাম্পাসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়ে দুই পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছেছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলের বাসভবনে কলেজ কর্তৃপক্ষ ও কওমী ছাত্র ঐক্য পরিষদের নেতাদের মধ্যে বৈঠকের পর এ সমঝোতা হয়।
বৈঠকে কওমী ছাত্র ঐক্য পরিষদের আব্দুল খালেকের নেতৃত্বে ৭-৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, কলেজের মূল ক্যাম্পাসে নবীনবরণ ও আলোচনা সভা হবে। আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে দক্ষিণ ক্যাম্পাসে।
কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি শাহাদাত হোসেন বলেন, আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান হয়েছে। নবীনবরণ ও আলোচনা সভা মূল ক্যাম্পাসে এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দক্ষিণ ক্যাম্পাসে আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
তবে বৈঠকের পর কওমী ছাত্র ঐক্য পরিষদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ মাঠে কোনো কনসার্ট হবে না, শুধু নবীনবরণ অনুষ্ঠান হবে।
পোস্টে আরও বলা হয়, নবীনবরণ উপলক্ষে কনসার্ট স্থগিতের দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছিল। পরে সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপে কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থী ও কর্তৃপক্ষ কনসার্ট স্থগিতের দাবি মেনে নেয়। একই সঙ্গে নবীনবরণ, বৃক্ষরোপণসহ অন্যান্য সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়ে মত দেওয়া হয়েছে।
কওমী ছাত্র ঐক্য পরিষদের আব্দুল খালেক বলেন, ‘আমরা এমপি মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনা করেছি। সরকারি কলেজের মাঠে কোনো কনসার্ট বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে না। দক্ষিণ ক্যাম্পাসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অশ্লীলতা হবে না—এই শর্তে ভেতরের মাঠে অনুষ্ঠান করার বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি।’
অন্যদিকে সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেন, ‘কলেজের লোকজন ও মাদ্রাসার ছাত্রদের নিয়ে আমরা বসেছিলাম। একটা সমঝোতা হয়েছে।’ সাংস্কৃতিক বা গানের অনুষ্ঠান হবে বলেও জানান তিনি।
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, কলেজের মূল ক্যাম্পাসে কনসার্ট না করে দক্ষিণ ক্যাম্পাসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়েই শেষ পর্যন্ত সমঝোতা হয়েছে।
সময়ের আলো/এসএকে