মেসওয়াকের ফজিলত ও উপকারিতা

ইসলামের আলো ডেস্ক

ইসলাম

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ও সুস্বাস্থ্যের প্রতিও ইসলাম বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। সেই শিক্ষারই অন্যতম অনুশীলন হলো

2026-07-29T23:55:44+00:00
2026-07-29T23:55:44+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬,
১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
ইসলাম
মেসওয়াকের ফজিলত ও উপকারিতা
ইসলামের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫৫ পিএম 
ছবি : সংগৃহীত
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ও সুস্বাস্থ্যের প্রতিও ইসলাম বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। সেই শিক্ষারই অন্যতম অনুশীলন হলো মেসওয়াক। এটি শুধু দাঁত পরিষ্কারের একটি প্রাকৃতিক উপায় নয়, বরং মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সুন্নাহ। মেসওয়াকের মাধ্যমে যেমন মুখ ও দাঁত পরিচ্ছন্ন থাকে, তেমনি অর্জিত হয় আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টিও। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানও মেসওয়াকের নানা স্বাস্থ্যগত উপকারিতার কথা স্বীকার করেছে।

মেসওয়াকের গুরুত্ব বোঝাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর না হতো, তবে আমি প্রত্যেক নামাজের সময় তাদের মেসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।’ (সহিহ বুখারি : ৮৮৭)

এই হাদিস থেকে স্পষ্ট হয়, মেসওয়াকের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। তবে উম্মতের ওপর কষ্টের আশঙ্কা থাকায় এটি ফরজ করা হয়নি। তা সত্ত্বেও নবীজি (সা.) প্রায় প্রতিটি নামাজের আগে মেসওয়াক করতে উৎসাহিত করেছেন।

মেসওয়াকের ফজিলত সম্পর্কে রাসুল (সা.) আরও বলেছেন, ‘মেসওয়াক মুখকে পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন করে এবং আল্লাহকে সন্তুষ্ট করে।’ (সুনানে নাসায়ি : ৫)

এই হাদিসে মেসওয়াকের দুটি গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথমটি দুনিয়াবি—এটি মুখ পরিষ্কার রাখে, দুর্গন্ধ দূর করে এবং মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। দ্বিতীয়টি আখিরাতের—মেসওয়াক আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি লাভের একটি মাধ্যম।


রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দৈনন্দিন জীবনে মেসওয়াক ছিল একটি নিয়মিত আমল। তিনি ঘুম থেকে জেগে, অজুর সময়, নামাজের আগে, ঘরে প্রবেশের সময় এবং কোরআন তিলাওয়াতের আগে মেসওয়াক করতেন। এমনকি জীবনের শেষ মুহূর্তেও তিনি এই সুন্নাহ পরিত্যাগ করেননি। হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, মৃত্যুশয্যায় আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর (রা.)-এর হাতে থাকা মেসওয়াকের দিকে রাসুল (সা.) আগ্রহভরে তাকালে তিনি সেটি নরম করে নবীজির হাতে দেন। এরপর রাসুলুল্লাহ (সা.) তা দিয়ে মেসওয়াক করেন। (সহিহ বুখারি : ৪৪৪৯)

ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি মেসওয়াকের রয়েছে নানা স্বাস্থ্যগত উপকারিতাও। এটি দাঁতের ময়লা দূর করে, মাড়ি শক্ত রাখে, মুখের দুর্গন্ধ কমায়, ক্ষতিকর জীবাণুর আক্রমণ হ্রাস করে এবং দাঁতের ক্ষয় প্রতিরোধে সহায়তা করে। তাই নিয়মিত মেসওয়াক মুখের সার্বিক সুস্থতা বজায় রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

বর্তমান সময়ে অধিকাংশ মানুষ দাঁত পরিষ্কারের জন্য টুথব্রাশ ও টুথপেস্ট ব্যবহার করেন, যা ইসলামি দৃষ্টিতেও বৈধ। তবে এর পাশাপাশি মেসওয়াকের সুন্নাহকে জীবিত রাখা একজন মুসলিমের জন্য অত্যন্ত প্রশংসনীয় আমল। আধুনিক স্বাস্থ্যচর্চা ও নবীজি (সা.)-এর সুন্নাহ—উভয়ের সমন্বয়ে মেসওয়াক হতে পারে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও বরকতময় জীবনের একটি সহজ অনুশীলন।

সময়ের আলো/এসএকে


  বিষয়:   মেসওয়াক  ফজিলত  উপকারিতা  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
ইসলাম- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: