মালয়েশিয়ার গভীর এক জঙ্গল। রাতের আঁধারে পাহাড়ের চূড়ায় বসে আছেন বাংলাদেশি তরুণ নয়ন ও তার মতো আরও কয়েকজন। টানা ছয় মাস ধরে তারা জঙ্গল পরিষ্কারের কাজে নিয়োজিত। বন্যপ্রাণীর ভয়াল গর্জন, বিষাক্ত পোকামাকড়ের কামড় আর প্রতিনিয়ত মৃত্যুভয়ের সঙ্গে লড়াই করেই কাটছে তাদের প্রতিটি দিন। সেই রাতে পাহাড়ের চূড়ায় বসে সবাই নিঃশব্দে তাকিয়ে ছিলেন ঘন অন্ধকারের দিকে। কেউ মুখে কিছু বলছিলেন না, কিন্তু সবার মনে ঘুরপাক খাচ্ছিল একই প্রশ্ন যেভাবেই হোক, এখান থেকে পালাতে হবে। কিন্তু কীভাবে? বর্তমানে ব্র্যাক মাইগ্রেশন সেন্টারে কর্মরত নয়ন বিদেশে নিজ জীবনের সেই দুঃসহ দিনগুলোর কথা ভেবে এখনও শিউরে ওঠেন।
শুধু এক নয়নই নন, এরকম হাজারো বাংলাদেশি তরুণ-তরুণীরই আছে হাজারো করুণ গল্প। প্রত্যেকের গল্পই প্রায় এক। মিথ্যা প্রলোভনে বিদেশ গিয়ে তারা পণ্যে পরিণত হতে বাধ্য হন। বিদেশের মাটিতে পা রাখামাত্র পণ্য হিসেবেই দেশি দালালরা তাদের বিক্রি করে দেয় শ্রমশোষণকারী বিদেশি গোষ্ঠীর কাছে। তারপর শুরু হয় জিম্মি জীবন, যা বাস্তবের নাটক-সিনেমাকেও হার মানায়। ভাগ্যবান অনেকে প্রাণে বেঁচে দেশে ফিরতে পারলেও সমাজের নানা কটূক্তিতে বিষিয়ে ওঠে তাদের পরবর্তী জীবন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেছে মানব পাচারের ধরন। সেই সঙ্গে বদলে গেছে টার্গেটও। প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রলুব্ধ করা হচ্ছে নির্দিষ্ট বয়সি নারী-পুরুষকে। এখন আর শুধু প্রান্তিক-দরিদ্র জনগোষ্ঠীই নয়, উচ্চ শিক্ষিত স্মার্ট তরুণ-তরুণীরাও টার্গেটে পরিণত হচ্ছে মানব পাচারকারীদের।
উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভনের ফাঁদ পাতা হচ্ছে শিক্ষিত তরুণদের টার্গেট করে। আর বিয়ের ফাঁদে ফেলে বাংলাদেশ থেকে কৌশলে নারীদের পাচার করা হচ্ছে বিদেশে। নিয়োজিত করা হচ্ছে অনৈতিক কাজে।
সম্প্রতি কম্বোডিয়া থেকে অর্ধ সহস্রাধিক তরুণকে মানব পাচারকারী চক্রের হাত থেকে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। আর বাংলাদেশি নারীদের বিয়ের ফাঁদে ফেলে বিদেশ পাচারের ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে চলতি মাসে নিজ দেশের নাগরিকদের সতর্ক করেছে চীন সরকার।
নয়নের গল্প : রাজশাহীর প্রত্যন্ত একটি গ্রামের সহজ-সরল যুবক নয়ন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাস করার পর ইচ্ছা ছিল সাংবাদিক হয়ে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়াবেন। কিন্তু সুযোগ মেলেনি। এরই মধ্যে গ্রামের এক পরিচিতের মাধ্যমে জানতে পারেন মালয়েশিয়া যেতে পারলে মাসে ৪০ হাজার টাকা বেতন পাওয়া যাবে। কিন্তু অভিভাবকরা তাকে বিদেশ যেতে দিতে নারাজ। পরে বন্ধ করে দিলেন খাওয়া-দাওয়া। তার জেদের কাছে একসময় পরাজিত হয় পিতা-মাতার শাসন। বিদেশ যাওয়ার জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা দিতে প্রথমবারের মতো আসেন ঢাকায়। সেখানেই প্রথম ধাক্কা খান তিনি। তাকে ‘আদম’ বলে সম্বোধন করেন এক এজেন্সির মালিক। মানব পাচার বিষয়টিও জানতেন তিনি। কিন্তু বিদেশ যাওয়ার মোহে সেসব দুশ্চিন্তাকে পাত্তা দেননি। পাঁচ ঘণ্টা ভ্রমণ শেষে মালয়েশিয়া পৌঁছে খেলেন দ্বিতীয় ধাক্কা। কেউ সেখানে তাদের নিতে আসেনি। বেসিনের পানি খেয়ে পার করেন এক দিন। পরে ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় নিয়োগকারী কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ হলে তাদের নিয়ে যাওয়া হয়। নয়নসহ ৬ জনকে রাখা হয় একটি গুদামে। যেখানে আগে থেকেই বন্দি ছিলেন প্রায় ৪০০ জন আদম। সেখান থেকেই নয়নসহ বেশ কয়েকজনকে বিক্রি করে দেওয়া হয় আরেক চক্রের কাছে। গাড়িতে করে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় এক গভীর জঙ্গলে। থাকার জন্য দেওয়া হয় একটা ছোট ঘর আর খাওয়ার জন্য চাল-ডাল। কাজ করতে না চাইলে করা হয় নির্মম শারীরিক নির্যাতন। এভাবে কাটে ৬ মাস। এ ৬ মাসে কখনো বালিশ মাথায় দিয়ে ঘুমাতে পারেননি।
এরকমই এক রাতে তারা পাহাড়ের চূড়ায় বসে সিদ্ধান্ত নেন এখান থেকে পালাবেন। যাবেন বাংলাদেশ দূতাবাসে। পরিকল্পনা অনুযায়ী একটি দিনও ঠিক করে ফেলেন তারা। নির্দিষ্ট দিনে তারা ৬০ জন জানালার কাচ ভেঙে বেরিয়ে পড়েন। ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টার হেঁটে পার হন গভীর জঙ্গল। পরের দিন আরও ৫৫ জন বাংলাদেশি একইভাবে পালিয়ে আশ্রয় নেন বাংলাদেশ দূতাবাসে। সেখান থেকে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের সহায়তায় ফিরে আসেন বাংলাদেশে।
মানব পাচারকারীদের কাছ থেকে দেশে ফিরে আরেক বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয় তাকে। সমাজের কাছে তিনি ও তার পরিবার কটূক্তির শিকার হতে থাকেন।
নয়ন জানান, বর্তমানে তিনি ব্র্যাকে কাজ করেন। এখানে কাজ করা অবস্থায় একদিন বিমানবন্দর থেকে তাকে জানানো হয়, এক অন্তঃসত্ত্বা নারী বিদেশ থেকে দেশে ফিরে আসছেন। কিন্তু পরিবার তাকে গ্রহণ করতে চাচ্ছে না। তিনি আত্মহত্যা করতে চাচ্ছেন।
এখনও বন্দি অনেকে : চলতি মাসের পহেলা জুলাই কম্বোডিয়ার বিভিন্ন সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে উদ্ধার হওয়ার পর দেশে ফেরেন ১০৯ বাংলাদেশি। শুধু গত জুন মাসেই কম্বোডিয়া থেকে ফেরেন মোট ৫৮৩ জন বাংলাদেশি ভুক্তভোগী।
এর আগে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি মিয়ানমারের একটি সাইবার স্ক্যাম (ডিজিটাল ও ইন্টার প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা) সেন্টার থেকে আটজন এবং ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর আরও ১৮ জন বাংলাদেশি দেশে ফেরেন। তাদেরও ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে থাইল্যান্ড সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে জোরপূর্বক সাইবার প্রতারণার কাজে নিয়োজিত করা হয়।
জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে ১৫ হাজার ৯২১ জন বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে কম্বোডিয়ায় গেছেন। তবে দেশে ফেরা ভুক্তভোগীদের দাবি, সেখানে এখনও হাজার হাজার বাংলাদেশি চাকরি না পেয়ে বা প্রতারণার শিকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের অধিকাংশকেই উচ্চ বেতনের চাকরির আশ্বাস দিয়ে বিদেশে পাঠানো হয়েছিল।
ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের আওতায় পাচারের শিকার ৯ হাজার ১৯২ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এ ছাড়া ২০১৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৩৪ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশি প্রবাসীকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সহায়তা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
ব্র্যাক জানায়, কম্পিউটার অপারেটর, কল সেন্টার এক্সিকিউটিভ, কাস্টমার সার্ভিসসহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় পদের চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে ভুয়া ওয়েবসাইট, ই-মেইল, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে নিয়োগের প্রলোভন দেখানো হয়। পরে চাকরিপ্রার্থীদের সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ডে নিয়ে গিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে অনলাইন প্রতারণার কাজে বাধ্য করা হয়।
কম্বোডিয়ার গল্প : কম্বেডিয়া থেকে ফেরত আসাদের একজন লক্ষ্মীপুরের আসাদ হোসেন। সেখানে কীভাবে সাইবার প্রতারকদের খপ্পরে পড়েন তার বর্ণনা দেন তিনি। আসাদ বলেন, ভালো বেতনে কম্পিউটার সম্পর্কিত কাজের কথা বলে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় সেখানে। খরচ হয় প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকা। চীন হয়ে কম্বোডিয়ায় পৌঁছালে তাদের রিসিভ করেন একজন বাংলাদেশি দালাল। রাখা হয় উন্নত মানের একটি হোটেলে। দুই দিন পর তাদের বিক্রি করে দেওয়া হয় এক চক্রের কাছে, যা পরে বুঝতে পারেন তিনি।
বলেন, কম্বোডিয়ায় পাহাড়ঘেঁষা নির্জন স্থানে একটি বাড়িতে আটকে রাখা হয় বাংলাদেশিদের। সেখানে তাদের বাধ্য করা হয় অনলাইনে নারী সেজে বিশ্বের বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের কাজে। পুরো ভবনটি ছিল কেন্দ্রীয়ভাবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। একাধিক প্রতিষ্ঠান একই কাজ করত ওই ভবনে। অফিস খুলে চালানো হচ্ছে এ প্রতারণাকর্ম (স্ক্যাম)। সেখানে দুই হাজার মার্কিন ডলারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় আড়াই লাখ টাকা) বিক্রি করে দেওয়া হতো একেকজন বাংলাদেশি তরুণকে। স্ক্যাম করতে না চাইলে কঠোর নির্যাতন করা হতো। টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দেওয়া হতো। বন্দি অনেকে বাধ্য হয়ে দেশ থেকে টাকা আনিয়ে উদ্ধার পেত। দেওয়া হতো মোটা অঙ্কের টার্গেট। অনেকেই সেই টার্গেট পূরণ করতে পারত না। তখন বন্ধ করে দেওয়া হতো খাবার। চলত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। সেখানে থেকে মুক্ত হয়ে আরকেটি চাকরি নেন। কিছু অর্থ জমিয়ে উড়োজাহাজের টিকেটের টাকা জোগাড় করে দেশে ফিরে আসেন তিনি। মানিকগঞ্জের মাসুমও ৫ লাখ টাকা দিয়ে যান কম্বোডিয়ায়। সেখানে গিয়ে বুঝতে পারেন তিনিও সাইবার প্রতারণায় জড়িত চক্রের খপ্পরে পড়েছেন। তাকেও বলা হয়, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে মাসুমকে কিনে নেওয়া হয়েছে।
প্রতারণামূলক এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশের মালিক চীনা নাগরিক। ‘আদম’ কেনাবেচার পূর্বে ইংরেজি দক্ষতা ও টাইপিং স্পিড পরীক্ষা করা হয়। যার দক্ষতা যত বেশি তার বিক্রি মূল্যও তত বেশি। এক প্রতিষ্ঠান অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে এসব দক্ষ তরুণকে বিক্রি করে দেয়।
বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন : মানব পাচার নিয়ে কাজ করছে দেশি-বিদেশি বেশ কিছু বেসরকারি সংস্থা। তাদেরই একটি ইনসিডিন বাংলাদেশ। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম সময়ের আলোকে বলেন, মানসব পাচারের ধরন এখন বদলে গেছে। পাচারকারীরা এখন ফেসবুক, টিকটকের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে পাচারের টুল হিসেবে কাজে লাগাচ্ছে। কিন্তু পাচারের সঙ্গে যুক্ত রাঘব বোয়ালরা কখনো ধরা পড়ে না, ধরা পড়ছে নিচের দিকের কেরিয়াররা। সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। সেই সঙ্গে বৃদ্ধি করতে হবে জনসচেতনতা।
জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের কান্ট্রি ডিরেক্টর তারিকুল ইসলাম বলেন, মানব পাচারকারীরা তাদের কাজের ধরনে পরিবর্তন এনেছে। মানব পাচারে মানুষ পণ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মানব পাচারের শিকার বেশি হয় ১২ থেকে ৩৫ বছর বয়সিরা। সম্প্রতি আমরা পাচারের যেসব ঘটনা সম্পর্কে জানতে পেরেছি, তার ৪০ শতাংশ ভুক্তভোগীই ফেসবুক, টিকটকের মতো কোনো সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সংযুক্ত হয়েছিল।
তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ মানব পাচারকারীদের রুখতে করণীয় বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইটির অধ্যাপক বি এম মইনুল হোসেন বলেন, মানব পাচারকারীরা শুধু সামাজিক মাধ্যমই নয়, তারা ব্যবহার করছে ডার্ক ওয়েব। ফলে খুব সহজেই তারা নিজেদের পরিচয় গোপন করতে পারছে। সেখানে ক্রোম বা সাধারণ কোনো ব্রাউজার দিয়ে ঢোকা যায় না। ওখানে ঢুকতে লাগবে টর ব্রাউজার। এসব বিষয় প্রতিরোধ করতেও একই রকম প্রযুক্তি ব্যবহার করা প্রয়োজন। পাচার প্রতিরোধে আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সক্ষম ও আধুনিক করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।
চীনের সতর্কতা : বিয়ে এবং প্রেমের ফাঁদে ফেলে ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশি দুই নারীকে চীনে পাচারের চেষ্টার সময় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দুই চীনা নাগরিককে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। তাদের নাম হলো মে পেনগুই এবং তিয়ান জেংওয়েন। এরকম ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে অবৈধ ম্যাচমেকিং সেবা বা দালালের মাধ্যমে বিয়ে করার বিষয়ে নিজ নাগরিকদের জন্য কঠোর সতর্কবার্তা জারি করেছে চীন। সম্প্রতি অবৈধ ম্যাচমেকিং বা বিয়ের নামে প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে বাংলাদেশি নারীরা চীনে পাচারের শিকার হচ্ছেন এমন আশঙ্কায় বেইজিং এ পদক্ষেপ নেয়।
গত ১৫ জুলাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিবৃতিতে ঢাকার চীনা দূতাবাসের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, কোনো চীনা নাগরিক যদি দালাল বা অবৈধ আন্তঃসীমান্ত বিবাহ ম্যাচমেকিং এজেন্সির মাধ্যমে স্ত্রী খোঁজার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে আসেন, তবে তিনি মানব পাচারের সন্দেহে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হতে পারেন।
সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগ : মানব পাচার রোধে বর্তমান বিএনপি সরকার বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে। ৩০ জুলাই বিশ্ব মানব পাচার প্রতিরোধ দিবসকে কেন্দ্র করে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে নেওয়া হয়েছে বেশ কিছু উদ্যেগ। ইতিমধ্যে পরিবর্তন আনা হয়েছে মানব পাচার আইনেও।
সম্প্রতি পুরোনো মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ বাতিল করে যুগোপযোগী করা হয়েছে ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ (২০২৬ সালের ৫৫ নম্বর আইন)। এ নতুন আইনে অভিবাসী চোরাচালানকে প্রথমবারের মতো অপরাধ হিসেবে পূর্ণাঙ্গভাবে যুক্ত করা হয়েছে, ডিজিটাল প্রতারণা রোধে কঠোর বিধান আনা হয়েছে এবং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা আরও জোরদার করা হয়েছে। বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন মানব পাচার নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলো।
সম্প্রতি রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান একটি বৈশ্বিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সে জন্য ২০১২ সালের মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনটি সংশোধন করা হয়েছে। তিনি বলেন, অনলাইন প্রতারণা, স্ক্যামিং এবং মুক্তিপণ আদায়ের মতো অপরাধগুলোকে এ আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
মানব পাচারের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে আজ বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে বিশ্ব মানব পাচার প্রতিরোধ দিবস। দিবসকে কেন্দ্র করে আজ দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন, থানা ও জেলা পর্যায়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগ মানব পাচারের ধরন ও প্রতিরোধের বিষয়ে সাধারণ মানুষের ভেতর সচেতনতা তৈরি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/আরবিএন