যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘ সংঘাতের পর নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে তৎপর হয়েছে ইরান। চীন থেকে প্রায় ৪০০টি কাঁধে বহনযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা বা ম্যানপ্যাডস কিনতে যাচ্ছে তেহরান বলে সম্প্রতি রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
প্রায় ছয় থেকে সাত কোটি ডলারের এই চুক্তির আওতায় কিউডব্লিউ-১২ এবং এফএন-১৬ মডেলের ক্ষেপণাস্ত্র পাওয়ার কথা রয়েছে ইরানের।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, হংকংভিত্তিক একটি মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। ইরানের সামরিক ঘাঁটি ও কৌশলগত অবকাঠামো সুরক্ষায় স্বল্পপাল্লার এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, চীনের উরুমকি থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্লেনে করে পাকিস্তানে আসবে। এরপর সেখান থেকে ট্রানজিট হয়ে তা ইরানে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে অস্ত্রগুলো পাকিস্তানের আকাশপথ নাকি স্থলপথ দিয়ে নেওয়া হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। এই খবর প্রকাশের পরই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।
এদিকে, ইরানে চীনা অস্ত্র সরবরাহের জন্য পাকিস্তান ট্রানজিট দিচ্ছে— এমন খবর সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) জানিয়েছে, এ ধরনের সমস্ত জল্পনা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য।
আইএসপিআর এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়েছে, চীন থেকে ইরানে আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের সঙ্গে পাকিস্তানের জড়িয়ে পড়ার দাবি পুরোপুরি বানোয়াট ও মিথ্যা।
অন্যদিকে, বেইজিংয়ের পক্ষ থেকেও এই ধরনের প্রতিবেদনকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং চীন শান্তি বজায় রাখতে কাজ করছে বলে জানানো হয়েছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ