ভারত সীমান্তসংলগ্ন নেপালের সুনসারি জেলায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনায় একজন নিহত ও অন্তত ২২ জন আহত হওয়ার পর অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করেছে দেশটির সরকার।
ভারতের বিহার সীমান্তঘেঁষা দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সুনসারি জেলা নেপাল-ভারতের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও যোগাযোগ করিডোর হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহে একটি ধর্মীয় শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে লাউডস্পিকার ব্যবহার ও ধর্মীয় পতাকা প্রদর্শন নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পুলিশ ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে গুলি চালায়। এতে একজন নিহত হন। আহতদের মধ্যে ১৩ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও রয়েছেন।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র ‘বালেন’ শাহ এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সুনসারি জেলার বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
সরকার নিহত ব্যক্তির পরিবারকে দুই লাখ নেপালি রুপি ক্ষতিপূরণ এবং আহতদের প্রত্যেককে চিকিৎসা ব্যয় হিসেবে ৫০ হাজার নেপালি রুপি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সুনসারির সহকারী প্রধান জেলা কর্মকর্তা পোষণ লামিছানে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এক বিবৃতিতে নেপাল সরকার জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে এবং সহিংসতার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে পুলিশের গুলি চালানোর ঘটনা নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। মানবাধিকারকর্মী ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশ অভিযোগ করেছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করেছে।
এ অভিযোগ তদন্তে সরকার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এদিকে সহিংসতা মোকাবিলায় ব্যর্থতার অভিযোগে জনমতের চাপের মুখে সুনসারির প্রধান জেলা কর্মকর্তা বাসুদেব ঘিমিরে, কোশি প্রদেশ পুলিশের প্রধান ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল বিনোদ ঘিমিরে এবং সুনসারি পুলিশের প্রধান কেশব কুমারকে বদলি করা হয়েছে।
সহিংসতার পর বিক্ষোভকারীরা জেলা প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন।
সময়ের আলো/কেএইচ