বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বর্তমানে যে শীতল সম্পর্ক বিরাজ করছে, এই টানাপোড়েন সম্পর্কের মধ্যেও বরফ গলানোর চেষ্টা চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ বাণিজ্যিক ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক হতে যাচ্ছে।
বৈঠকে অংশ নিতে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল সেখানে গেছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। বৈঠকটি ৭ অক্টোবর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অনিবার্যকারণবশত বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল নির্ধারিত সময়ে ভারতে যেতে পারেনি। যে কারণে এক দিন পিছিয়ে আজ বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে।
সূত্রে জানা গেছে, বাণিজ্যিক বিষয় ছাড়াও অন্য বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হতে পারে। বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কীভাবে কমিয়ে আনা যায় বিষয়টি বৈঠকে অগ্রাধিকার পাবে। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই বৈঠকটি ঢাকায় করার প্রস্তাব ছিল।
কিন্তু ভারত তাদের আরও একটি বৈঠক ঢাকায় করবে বলে আশ্বস্ত করেছে। আর সেই বৈঠকটি হচ্ছে কনস্যুলার বিষয়ে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের। যেখানে ভিসা-সংক্রান্ত নানা জটিলতার বিষয়ে আলোচনা হবে। বিশেষ করে বাংলাদেশের নাগরিক ভারতে ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে কি ধরনের সমস্যর সম্মুখীন হচ্ছে তা দূর করা।
জানা গেছে, আজকের বাণিজ্যবিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে আমদানি-রফতানির শুল্ক বিষয়গুলো উঠে আসতে পারে। এ ছাড়া চোরাচালান বন্ধ করার ব্যাপারে কি ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে তার একটি খসড়া রূপরেখা নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গত দুই বছরে যে টানাপোড়েন সম্পর্ক তৈরি হয়েছে তা কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে এই বাণিজ্যিক বিষয় যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকটি বরফ গলানোর একটি প্রাথমিক ধাপ হিসেবে বিবেচনা করছেন সংশ্লিষ্টরা। স্বাভাবিক যোগাযোগ কীভাবে ফিরিয়ে আনা যায় তারই এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন সাবেক কূটনীতিবিদরা। তবে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের সময়সূচিটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বড় ধরনের অবনতি ঘটে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ইস্যুতে মতপার্থক্য দেখা দেয়। বিশেষ করে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান, সীমান্ত পরিস্থিতি, ভিসা কার্যক্রম ও বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। নিয়মিত উচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগেও ছেদ পড়ে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করে। সরকার গঠনের পর ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কে নতুন পর্যায়ে নেওয়ার জন্য উদ্যোগ শুরু হয়। ভারত দ্রুত সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করে।
ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারত সফরে যাওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। একই সঙ্গে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে তাকে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। তবে বাংলাদেশ গত মাসে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেয়নি। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় ভারত সফরের তারিখও এখন পর্যন্ত নির্ধারিত হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভারতের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের নেওয়ার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। তবে চলতি মাসে ভারতের কূটনৈতিক সূচি বেশ ব্যস্ত। চলতি মাসে সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট গাই পারমেলিন ও পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কের ভারত সফরের কথা রয়েছে।
এ ছাড়া নভেম্বরের ১৬ থেকে ১৮ তারিখ পর্যন্ত ফিলিপাইনে অনুষ্ঠিতব্য আসিয়ান সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও বেলজিয়াম সফরের সম্ভাবনা রয়েছে তার।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানেরও আন্তর্জাতিক সফরের কর্মসূচি রয়েছে। চলতি মাসে জাপান সফরে যাচ্ছেন তিনি। নভেম্বরে তুরস্ক ও সৌদি আরব সফরের সম্ভাবনা রয়েছে তার। এর ফলে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকের জন্য পারস্পরিক সুবিধাজনক সময় বের করাও একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে