ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে দেশটির জনগণকে কষ্ট সহ্য করতে হবে। প্রয়োজন হলে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বন্ধ রেখে শিল্প ও উৎপাদন খাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের কারণে ইরানের অর্থনীতি ক্ষতির মুখে পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের উৎপাদন ব্যবস্থা সচল রাখতে কম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট।
ইরানের নেতারা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, মার্কিন অবরোধে দেশটি খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না। তবে পেজেশকিয়ানের সাম্প্রতিক বক্তব্যে অবরোধের কিছুটা প্রভাব স্পষ্ট হয়েছে। তিনি বলেন, ‘উৎপাদনের যে চক্র আছে, আমরা সেটিকে ক্ষতিগ্রস্ত হতে দিতে পারি না।’ এ জন্য বিদ্যুৎ, গ্যাস, পেট্রোল, পানি ও অন্যান্য জ্বালানির ব্যবহার কমানোর কথাও জানান তিনি।
পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে ত্যাগ স্বীকার করতে হবে উল্লেখ করে পেজেশকিয়ান বলেন, প্রতিরোধ এবং পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে থাকার শর্ত হলো সবাইকে কষ্ট সহ্য করতে হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরাইল। এরপর টানা ৪০ দিন রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চলে। পরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় মার্কিন ও ইরানিদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হলেও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করে, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে, ইরান জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে রেখেছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ