ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের জন্য ইসলাম ও অভিবাসনকে দায়ী করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজ দেশে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তিনি মূলত তাঁর ডানপন্থি বয়ানকে সামনে নিয়ে আসছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘ফ্রান্সে যা ঘটছে তা মূলত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া গণঅভিবাসনের ফল।’ তিনি আরও লেখেন, ‘এটি মোটেও স্কুলসংক্রান্ত বিষয় নয়। ইসলাম, এক সময়ের মহান দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে। এটি তারই অংশ।’
শিক্ষার উন্নত পরিবেশের দাবিতে গত মাসের শেষ দিকে ফ্রান্সের হাইস্কুলগুলোতে ব্লকেড বা অবরোধ চলছে। এসব বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। মঙ্গলবার ফ্রান্সজুড়ে প্রায় আড়াই লাখ বিক্ষোভকারী রাজপথে নামেন।
ট্রাম্প তাঁর দাবির বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি বা কোনো প্রমাণও দেননি। ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে এখন পর্যন্ত কোনো ধর্মীয় সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বৈশ্বিক অভিবাসন ইস্যুকে জোরালোভাবে তুলে ধরতে ফ্রান্সের বিক্ষোভকে ব্যবহার করছেন ‘মাগা’ সমর্থকরা।
সবশেষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় ট্রাম্প মাগা বা ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ আন্দোলন গড়ে তোলেন। মঙ্গলবার তিনি ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট দেওয়ার পর মাগা সমর্থকরা ফ্রান্সের বিক্ষোভের বিভিন্ন ভিডিও শেয়ার করতে শুরু করেন।
ট্রাম্পের মিত্র গ্লেন বেক এক্সে বলেন, ফ্রান্সের এই দাঙ্গা পশ্চিমা বিশ্বের জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা। দেশটিতে যা ঘটছে তা সমাজতন্ত্রীদের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের অংশ। তারা পশ্চিমা বিশ্বকে ধ্বংস করতে চাইছে।
ডানপন্থি ভাষ্যকার ডেভ রুবিন ফ্রান্সের একটি রেলস্টেশনের ভিডিও শেয়ার করেছেন। তাঁর ১৬ লাখ অনুসারীর উদ্দেশে তিনি লিখেছেন, ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতায় এলে আমেরিকাতেও এমনটা ঘটবে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ