সরকার যদি রাজনৈতিক সন্ত্রাসের পথ বেছে নেয়, তবে দেশের সাধারণ জনগণও তা রুখে দিতে প্রতিরোধের পথেই হাঁটবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে সিলেটের গোলাপগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে আকস্মিক হামলার ঘটনার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) ‘জাতীয় ছাত্রশক্তি’ আয়োজিত ‘অগ্নিঝরা জুলাই : রক্তের ঋণ ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘গতকাল হবিগঞ্জের পর আজ গোলাপগঞ্জে যা ঘটল, তা থেকে স্পষ্ট যে দেশকে আবারও সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সরকারের সন্ত্রাসী রূপটি জাতির সামনে পরিষ্কার হয়ে গেছে। এই সন্ত্রাস মোকাবিলায় শুধু ১১ দল নয়, দেশের সকল ছাত্র-জনতা এবং গণতান্ত্রিক ও সামাজিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’
কর্মসূচিতে অনড় থাকার কথা জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা এখনই গোলাপগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হব এবং সেখানে গিয়ে দাঁড়াব। দেখি এই সরকারের কত সন্ত্রাসী রয়েছে এবং তারা কতটুকু আমাদের বাধা দিতে পারে! সংস্কার, বিচার ও জনগণের অধিকারের পক্ষে আমাদের এই লড়াই অব্যাহত থাকবে।’
এর আগে দুপুর আড়াইটার দিকে সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌরসভার গেটের সামনের প্রধান সড়কে এনসিপির গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের ব্যবহৃত গাড়ির গ্লাস ভেঙে যায়।
তবে বহরে বড় ধরনের আক্রমণের তথ্য নাকচ করে সিলেট জেলার পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক জানান, রাস্তা দিয়ে গাড়ি যাওয়ার সময় পাশ থেকে অজ্ঞাত কেউ ঢিল ছুড়ে মেরেছিল, এতে একটি গাড়ির কাচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একে সরাসরি গাড়িবহরে হামলা বলা চলে না এবং এতে কেউ আহতও হননি।
উল্লেখ্য, এর আগে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যায় হবিগঞ্জে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ শেষে তাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটেছিল। যাতে দলটির একাধিক নেতাকর্মী আহত হন। ওই ঘটনার জন্য এনসিপির পক্ষ থেকে ছাত্রদল ও যুবদলকে সরাসরি দায়ী করা হয়েছিল।
সময়ের আলো/জেডি