বনানীর রাজউকের সেই প্লট পেল নিজামীর পরিবার

এম মামুন হোসেন

জাতীয়

রাজধানী বনানীর সেই রাজউকের প্লটটি ফিরে পেলেন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী। ১৩/এ ধারায় প্রজাতন্ত্রের কাজে ‘অসাধারণ

2026-07-31T00:39:34+00:00
2026-07-31T00:39:34+00:00
 
  শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬,
১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
বনানীর রাজউকের সেই প্লট পেল নিজামীর পরিবার
এম মামুন হোসেন
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ১২:৩৯ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
রাজধানী বনানীর সেই রাজউকের প্লটটি ফিরে পেলেন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী। ১৩/এ ধারায় প্রজাতন্ত্রের কাজে ‘অসাধারণ অবদানে’ চারদলীয় জোট সরকারের শিল্পমন্ত্রী থাকাকালীন ২০০৬ সালে বনানী আবাসিক এলাকার ১৮ নম্বর সড়কের ৫ কাঠা আয়তনের প্লট পেয়েছিলেন তিনি।

২০১৬ সালের ১১ মে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ওই বছরই প্লট বরাদ্দে অনিয়ম ও ত্রুটির কারণ দেখিয়ে প্লটটি বাতিল করে  আওয়ামী লীগ সরকার। দীর্ঘ প্রায় এক দশক পর বাতিল হওয়া প্লটটি পুনর্বহালের বিষয়ে গঠিত পর্যালোচনা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) বোর্ড প্লটটি বাতিলাদেশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

রাজউকের বোর্ড সভার কার্যবিবরণী অনুযায়ী, বনানী আবাসিক এলাকার ১৮ নম্বর সড়কের ৬০ নম্বর প্লটটি ২০০৬ সালে মতিউর রহমান নিজামীর নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। পরে ২০১৬ সালে বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্লটটির বরাদ্দ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল সরকারের স্পষ্ট নির্দেশনা ছাড়া বরাদ্দ, হলফনামা সংক্রান্ত ত্রুটি, বিধি অনুসরণ না করা, ডেভেলপার নিয়োগে অনিয়ম এবং ভবনের বাণিজ্যিক ব্যবহার।

এরপর দীর্ঘ সময় বিষয়টি স্থগিত থাকলেও ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর নিজামীর উত্তরাধিকারীরা বরাদ্দ বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আবেদন করেন। আবেদনে স্বাক্ষর করেন মতিউর রহমান নিজামীর স্ত্রী সামছুন্নাহার, ছেলে নঈমুর রহমান, নাজিবুর রহমান ও নাদিমুর রহমান এবং মেয়ে মহসিনা ফাতেমা ও খাদিজা আক্তার। তারা দাবি করেন, প্লটটির বরাদ্দ আইনসম্মতভাবে হয়েছিল এবং পরবর্তীকালে ভবন নির্মাণ ও ফ্ল্যাটের মালিকানা সৃষ্টি হওয়ায় বরাদ্দ বাতিলের সিদ্ধান্ত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালে রাজউকের বোর্ড তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। কমিটিকে বরাদ্দ বাতিলের যৌক্তিকতা, চলমান মামলার অবস্থা, প্লটটির বর্তমান দখল এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়।

পর্যালোচনা শেষে কমিটি মত দেয়, ২০১৬ সালে যেসব কারণে প্লটটির বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছিল, তার অধিকাংশই বর্তমানে টেকসই নয়। কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্লটটি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার ভিত্তিতেই ২০০৬ সালে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। ফলে সরকারের অনুমোদন ছাড়া বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল এমন অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়।
হলফনামা নিয়ে যে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, সে বিষয়ে কমিটি উল্লেখ করে, মূল নথি রাজউকের রেকর্ড রুম থেকে হারিয়ে যাওয়ায় অভিযোগটি যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে এর দায় বরাদ্দ গ্রহীতার ওপর বর্তায় না। এ ছাড়া ডেভেলপার নিয়োগ, ভবনের নকশা অনুমোদন এবং ভবনের ব্যবহার নিয়েও অভিযোগ খতিয়ে দেখে কমিটি জানায়, ভবনটি বর্তমানে আবাসিক হিসেবেই ব্যবহৃত হচ্ছে। সরেজমিন পরিদর্শনেও এর সত্যতা মিলেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্লটটি নিয়ে একাধিক দেওয়ানি মামলা চলমান 
থাকলেও সেগুলো মূলত ক্রয়-বিক্রয় ও চুক্তি বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত। রাজউকের আইন শাখার মতামতে বলা হয়েছে, এসব মামলায় রাজউকের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো প্রতিকার চাওয়া হয়নি। ফলে মামলাগুলো প্লটের বরাদ্দ পুনর্বহালের ক্ষেত্রে আইনগত বাধা সৃষ্টি করছে না।

কমিটির প্রতিবেদন নিয়ে বোর্ডসভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় সদস্যরা মত দেন, যে পাঁচটি অভিযোগের ভিত্তিতে প্লটের বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছিল, সেগুলোর কোনোটিই বর্তমানে যথেষ্ট ভিত্তিসম্পন্ন নয়। প্লটের বরাদ্দ বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের অনুমোদন দেয়। একই সঙ্গে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় রাজউকের পরিচালককে (এস্টেট ও ভূমি-১)।

রাজউক সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর মতিউর রহমান নিজামীর পরিবার প্লটের বরাদ্দ ফিরে পেতে রাজউকে আবেদন করে। আবেদনে বলা হয়, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) লে-আউট প্ল্যানের আওতাধীন বনানী আবাসিক এলাকার ১৮ নম্বর সড়কের ৬০ নম্বর প্লটের ৫ কাঠা ১৫ ছটাক ১৩ বর্গফুট ভূমির প্লটের মূল বরাদ্দ প্রাপক মরহুম মতিউর রহমান নিজামীর ওয়ারিশ।

২০১৬ সালে বাতিল হওয়া প্লটটি ফিরিয়ে দিতে মতিউর রহমান নিজামীর স্ত্রী সামছুন্নাহার, ছেলে নঈমুর রহমান, নাজিবুর রহমান, নাদিমুর রহমান, মেয়ে মহসিনা ফাতেমা ও খাদিজা আক্তার আবেদন করেন। রাজধানীর বনানীর ১৮ নম্বর রোডের ৬০ নম্বর প্লটটি নিজামীকে বরাদ্দ দিয়েছিল বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার। পরবর্তী সময়ে মিশন ডেভেলপার লিমিটেড কোম্পানিকে দিয়ে ওই প্লটে বাড়ি তৈরি করে নেন তিনি। অফ হোয়াইট রঙের ‘মিশন নাহার’ নামের ওই ছয় তলা বাড়িটিতে মোট ১০টি ফ্ল্যাটের পাঁচটি নিজামীর। এ বাড়ির নামের প্রথম অংশ ডেভেলপার কোম্পানির নামের অংশবিশেষ এবং শেষ অংশটি নিজামীর স্ত্রী সামছুন্নাহারের নামের শেষ অংশ, যিনি জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজউকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সময়ের আলোকে বলেন, রাজউকের প্লট ফিরে পেতে মতিউর রহমান নিজামীর পরিবার আবেদন করে। প্লটের আইনগত দিক যাচাই-বাছাই করা হয়। এরপর বোর্ডসভার সিদ্ধান্তের আলোকে প্লটের বরাদ্দ বাতিলাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। 

সময়ের আলো/আআ




  বিষয়:   রাজউক  প্লট  নিজামী  পরিবার  সময়ের আলো/আআ 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: