সিন্ডিকেটের কারসাজি আয়ের ৬০ শতাংশই যায় খাবারে

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

দেশের সাধারণ মানুষের উপার্জনের সিংহভাগই চলে যায় দৈনন্দিন খাবারের পেছনে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির এই সংকটকালে সীমিত ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে তাদের মোট

2026-07-31T01:02:52+00:00
2026-07-31T01:02:52+00:00
 
  শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬,
১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
সিন্ডিকেটের কারসাজি আয়ের ৬০ শতাংশই যায় খাবারে
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ১:০২ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
দেশের সাধারণ মানুষের উপার্জনের সিংহভাগই চলে যায় দৈনন্দিন খাবারের পেছনে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির এই সংকটকালে সীমিত ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে তাদের মোট আয়ের প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় করতে হয় শুধু খাদ্যসামগ্রী কেনাকাটায়। ফলে শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো মৌলিক প্রয়োজনগুলো সংকুচিত করতে বাধ্য হন সাধারণ নাগরিকরা।

এ পরিস্থিতির পেছনে কেবল উৎপাদন খরচ দায়ী নয়; বরং সরবরাহ শৃঙ্খলে মধ্যস্বত্বভোগীদের একচেটিয়া প্রভাব ও অসাধু সিন্ডিকেটের কারসাজিই মুখ্য ভূমিকা রাখছে। বৃহস্পতিবার মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে ‘দ্য ফুড প্রাইস চেইন : মার্কেটস, মার্জিনস অ্যান্ড ইন্টারমিডিয়ারিজেস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা ও সরবরাহ শৃঙ্খলে স্বচ্ছতা ফেরানো সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। সরকার অসাধু মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। প্রকৃত উৎপাদক ও কৃষকরা যেন ন্যায্যমূল্য পান এবং ভোক্তারা সহনীয় দামে পণ্য কিনতে পারেন, সে লক্ষ্যে বাজার তদারকি জোরদার করা হচ্ছে।

সেমিনারে সিপিডির মূল প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়, খাদ্য মূল্যসূচকের (সিপিআই) প্রায় ৫৯ শতাংশই দখল করে আছে খাদ্যপণ্য। দেশের অতিদরিদ্র ৫ শতাংশ পরিবার তাদের মোট উপার্জনের প্রায় ৫৯.৮ শতাংশ অর্থ খাদ্য কিনতে খরচ করে। অন্যদিকে ধনী ৫ শতাংশ পরিবারের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ২৮.৯ শতাংশ। দেশে এখনও প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। আয় না বাড়ায় অনেকেই সঞ্চয় ভেঙে কিংবা ঋণ নিয়ে সংসার চালাচ্ছেন।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন জানান, গত চার বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি অর্থনীতিতে বড় উদ্বেগ তৈরি করেছে। কৃষকের খামার থেকে ভোক্তার টেবিল পর্যন্ত বহু স্তরের ফড়িয়া ও আড়তদারদের অনানুষ্ঠানিক সমঝোতার কারণে ধাপে ধাপে দাম বাড়ে।

গবেষণায় দেখা গেছে, খামার পর্যায় থেকে খুচরা বাজারে পৌঁছাতে পণ্যভেদে দামের ফারাক আকাশচুম্বী। কাঁচামরিচে এই বৃদ্ধি সর্বোচ্চ ১১৬ শতাংশ, চালে ১০০ শতাংশ, পেঁয়াজে ৮৭ শতাংশ, ডালে ৭৮ শতাংশ, বেগুনে ৭২ শতাংশ এবং আলুতে ৫০ শতাংশ। ১০টি প্রধান নিত্যপণ্যের ৬টিরই খুচরা বিক্রেতারা আড়তদারদের ওপর নির্ভরশীল, যা বাজারে কৃত্রিম প্রভাব তৈরিতে সহায়তা করে। সেমিনারে কৃষি অর্থনীতিবিদ এম এ সাত্তার মণ্ডলসহ অন্য বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

সময়ের আলো/আআ


  বিষয়:   সিন্ডিকেট  কারসাজি  আয়  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: