একসময় অস্ট্রেলিয়া দলের নিয়মিত মুখ ছিলেন জশ হ্যাজলউড। বিশেষ করে লাল বলের ক্রিকেটে। কামিন্স-স্টার্কদের সঙ্গে জুটি বেঁধে বল করতেন লম্বা সময় ধরে। বাংলাদেশের বিপক্ষে আসন্ন দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ সামনে রেখে লাল বলের ক্রিকেটে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ এ পেসার। আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনে শুরু হবে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্ট।
সেই ম্যাচে একাদশে সুযোগ পেলে শুধু আন্তর্জাতিক টেস্টে প্রত্যাবর্তনই হবে না, একই সঙ্গে ক্যারিয়ারের একটি ঐতিহাসিক মাইলফলকেও পা রাখবেন। বর্তমানে ৭৬ টেস্টে হ্যাজলউডের উইকেট সংখ্যা ২৯৫। অর্থাৎ আর মাত্র পাঁচটি উইকেট পেলেই তিনি টেস্টে ৩০০ উইকেটের ক্লাবে প্রবেশ করবেন। অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে এখন পর্যন্ত মাত্র ছয়জন পেসার এই কীর্তি গড়েছেন। সেই অভিজাত তালিকায় নিজের নাম যুক্ত করার সুযোগ এখন হ্যাজলউডের সামনে।
যদিও তার এই লক্ষ্য পূরণের আগে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দলে নিয়মিত জায়গা নিশ্চিত করা। অভিজ্ঞতা ও সামর্থ্যরে বিচারে তার একাদশে থাকা অনেকটাই প্রত্যাশিত। ২০২৫ সালের অ্যাশেজ সিরিজে হ্যামস্ট্রিং ও পেশির চোটের পর আর কোনো টেস্ট খেলেননি তিনি। ফলে প্রায় ১৩ মাস পর আবার সাদা পোশাকে মাঠে নামার অপেক্ষায় রয়েছেন ৩৫ বছর বয়সি এই পেসার। বাংলাদেশের বিপক্ষে মাঠে নামতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ব্রিসবনের ন্যাশনাল ক্রিকেট সেন্টারে কঠোর অনুশীলন করছেন। দলের অন্যান্য পেসারদের সঙ্গে সকাল-বিকাল দীর্ঘ সময় ধরে বোলিং করছেন তিনি। লক্ষ্য, পাঁচ দিনের টেস্ট ক্রিকেটের ধকলের সঙ্গে শরীর আবারও মানিয়ে নেওয়া।
অনুশীলন ক্যাম্পে হ্যাজলউড বলেন, আগামী দেড় বছরে অস্ট্রেলিয়ার ব্যস্ত টেস্ট সূচির কথা মাথায় রেখে একাধিক পেসারকে প্রস্তুত রাখা জরুরি। তার মতে, প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, স্কট বোল্যান্ডের পাশাপাশি মাইকেল নেসার ও ব্রেন্ডন ডগেটের মতো বোলারদেরও বিভিন্ন সময়ে প্রয়োজন হবে। গত অ্যাশেজে মূল পেসাররা না খেললেও বিকল্প বোলাররা দায়িত্ব পালন করে দলকে সিরিজ জিততে সাহায্য করেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
হ্যাজলউড আরও জানান, এবার কোনো প্রস্তুতি ম্যাচ ছাড়াই টেস্ট সিরিজের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, যা তাদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা। তবে এতে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী অনুশীলনের পরিকল্পনা সাজানোর সুযোগ মিলেছে। সপ্তাহজুড়ে দীর্ঘ বোলিং স্পেল, টানা কয়েক দিন বল করা এবং শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখার দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।
তবে ব্যক্তিগত অর্জন বা ৩০০ উইকেটের মাইলফলক নিয়ে এখনই বাড়তি ভাবতে চান না জশ হ্যাজলউড। তার মতে, দীর্ঘদিন পর টেস্ট ক্রিকেটে ফিরতে হলে আগে নিজের ফিটনেস, ছন্দ ও বোলিংয়ের ধার ফিরে পাওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই আপাতত প্রতিদিনের অনুশীলন পরিকল্পনা ঠিকভাবে শেষ করা, নির্ধারিত ওয়ার্কলোড বজায় রাখা এবং শরীরকে পাঁচ দিনের টেস্টের জন্য প্রস্তুত করাই তার মূল লক্ষ্য।
সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে এরপরই ডারউইনে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট নিয়ে ভাববেন তিনি। তবে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে আবারও সাদা পোশাকে মাঠে নামা এবং ৩০০ টেস্ট উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করার সুযোগ যে তাকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করছে, সেটিও স্পষ্ট। বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ দিয়েই সেই অপেক্ষার অবসান ঘটাতে মুখিয়ে আছেন অভিজ্ঞ এই পেসার।
সময়ের আলো/আআ