দুই দশকের বেশি সময় পর আবারও নিজের পরিচিত অঙ্গন বাংলাদেশ সাঁতার ফেডারেশনে ফিরেছেন ক্রীড়াঙ্গনের পরীক্ষিত সংগঠক, পরিচিত মুখ সৈয়দ আমিনুল হক দেওয়ান সজল। গত ১৮ জুলাই, ২০২৬ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) ২৮টি ক্রীড়া ফেডারেশনের নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠন করে, যার মধ্যে সাঁতার একটি। আর এই সাঁতার ফেডারেশনেরই সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সজল। পুরোনো ট্র্যাকে পা রেখে সাঁতারের ঐতিহ্য ও সাফল্যকে ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছেন।
দক্ষিণ এশিয়ার অলিম্পিক খ্যাত সাউথ এশিয়ান গেমসে (এসএ গেমস) সাঁতার ছিল বাংলাদেশের পদক প্রাপ্তির অন্যতম ইভেন্ট। মাঝে ২০১৯ কাঠমান্ডু গেমসে সাফল্যে ছেদ পড়ে। আগামী বছর পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হবে এসএ গেমস। সেখানে দল যাতে ভালো সাফল্য দেখাতে পারে, পদক জিততে পারে— সেই পরিকল্পনা এখন থেকেই কষছেন সজল।
মাসদুয়েক হতে চলল সাঁতার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকের চেয়ারে বসেছেন আমিনুল হক সজল। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তার ফেডারেশনে এসেছে দারুণ দুটি খুশির খবর। থাইল্যান্ডে আন্তর্জাতিক বয়সভিত্তিক সাঁতার প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক জিতেছেন বাংলাদেশ জাতীয় দল এবং নৌবাহিনীর সাঁতারু রাফিউল ইসলাম রাফি এবং ৬ সেপ্টেম্বর ভারতের মুর্শিদাবাদে অনুষ্ঠিত বিশ্ব দূরপাল্লা সাঁতার প্রতিযোগিতায় ফয়সাল, পলাশ ও সোনিয়াদের হাত ধরে এসেছে পদক জয়ের কীর্তি। এই দুটি ঘটনায় যারপরনাই আনন্দিত সজল।
সময়ের আলোকে তিনি বলেন, ‘সাঁতারে সাফল্য আমাদের ধারাবাহিকতারই অংশ। এক দিনে তো আর সাফল্য আসে না। দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণেই এই সাফল্য। তবে মুর্শিদাবাদে দূরপাল্লার যে প্রতিযোগিতায় আমরা এত বড় সাফল্য পেলাম, তার নেপথ্যে রয়েছেন আমাদের ফেডারেশনের সভাপতি নৌবাহিনী প্রধানের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা। তিনি আমাদের প্রতিযোগীদের জন্য কাপ্তাই লেকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছিলেন। এই প্রশিক্ষণ মুর্শিদাবাদে সাফল্য পেতে দারুণ কাজে দিয়েছে। আমাদের ফেডারেশন সভাপতি ক্রীড়াবান্ধব মানুষ। আমরা তার দিকনির্দেশনায় কাজ করে যাচ্ছি, সামনে আরও অনেক কাজ আপনারা দেখতে পাবেন।’
প্রায় বিশ বছর ফেডারেশনের বাইরে ছিলেন সজল। ২০০৭ সালের পর আবারও ফিরেছেন নিজের প্রিয় অঙ্গনে, সেই পুরোনো সাধারণ সম্পাদকের চেয়ারে। পুনরায় দায়িত্বে ফিরে কেমন লাগছে? সাঁতারের নতুন অ্যাডহক কমিটিই বা কেমন হলো? সময়ের আলোর এমন দুটি প্রশ্নের জবাবে সাঁতারের সাধারণ সম্পাদক জানান, আমি আগেই বলেছি আমরা একজন ক্রীড়াবান্ধব সভাপতি পেয়েছি। তার হাত ধরে আমাদের ফেডারেশন আগামীতে অনেকদূর এগিয়ে যাবে।
দ্বিতীয়ত আমাদের কমিটিতে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পদকপ্রাপ্ত অনেক উঁচুমানের খেলোয়াড় আছেন, স্বনামধন্য কর্তাব্যক্তিরা আছেন। সবার সমন্বয়ে খুবই শক্তিশালী একটি কমিটি গঠিত হয়েছে। আর এর সব কৃতিত্ব যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের। আমরা তার মতো এক যোগ্য মন্ত্রী, বিচক্ষণ মানুষ পেয়েছি। আমিনুল নিজেও একজন ক্রীড়াঙ্গনের মহাতারকা।
এর বাইরে আমরা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে জাহেদ পারভেজ চৌধুরীকে ডিরেক্টর স্পোর্টস হিসেবে পেয়েছি। এটা আমাদের সৌভাগ্য। তাদের সহযোগিতায় আমরা ফেডারেশনের কর্মকাণ্ডকে যেমন এগিয়ে নেব, তেমনি সাঁতার যাতে তার পুরোনো রূপে ফিরতে পারে, সাফল্যের ধারায় ফিরতে পারে সেই চেষ্টাও থাকবে।
দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তৃণমূলে জোর দিয়েছেন সজল। সাফল্য পেতে হলে প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই বলে জানান এ কর্মকর্তা। এ ব্যাপারে সময়ের আলোকে সজল আরও বলেন, ‘জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) ক্রীড়ার উন্নয়নে কিছু পরিকল্পনা আমাদের দিয়েছে। আমরা পাঁচ বছরমেয়াদি একটা পঞ্জিকা করেছি। এখানে প্রশিক্ষণ মাস্ট; প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই।
আমরা যেসব প্রোগ্রাম করি, যেমন— জাতীয় সাঁতার, ডাইভিং অ্যান্ড ওয়াটারপোলো, বয়সভিত্তিক সাঁতার, টেলেন্ট হান্ট, জাতীয় দূরপাল্লা প্রতিযোগিতা— এসব চলমান থাকবে। এর সঙ্গে আমরা স্বাধীনতা কাপ, বিজয় দিবস কাপ করি। ইনশাল্লাহ আমরা এবার জাতীয় ক্লাবটাও করব।
এ ছাড়া আমরা বিভাগীয় পর্যায়ে প্রত্যেক বিভাগের জেলাগুলোকে নিয়ে একটা জাতীয় প্রতিযোগিতার আয়োজন করব। অনেকটা নতুন কুঁড়ির আদলে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পোর্টসের জন্য মহাপরিকল্পনা করেছেন, আমরা সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সাঁতারকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করব।’
সাঁতারের যেমন— রয়েছে দীর্ঘ সাফল্যে গল্প, পদকপ্রাপ্তির ইতিহাস; আবার এর অবকাঠামো নিয়েও রয়েছে দীর্ঘ আলোচনা-সমালোচনা। বিশেষ করে সাঁতারের অচল ইলেকট্রনিক স্কোরবোর্ড নিয়ে। অনেক দিন ধরেই এটি অচল অবস্থায় রয়েছে। এর বাইরে বিদ্যুৎবিলও নিয়ে একটা সংকট রয়েছে ফেডারেশনের। এসব সমস্যা সম্পর্কে অবগত সজল এবং তার কমিটি। শিগগির এসব বিষয় নিয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বসবেন বলে সময়ের আলোকে নিশ্চিত করেন সাঁতার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক।
সময়রে আলো/প্রন্টি/এসএকে