ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় এবং তা কীভাবে শেষ করা হবে, সে বিষয়ে প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে ঐকমত্য না থাকায় ক্রমেই বিরক্ত হয়ে উঠছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনটাই দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প আশা করেছিলেন ইরান দ্রুতই আলোচনার টেবিলে ফিরে আসবে। কিন্তু প্রায় ছয় মাস ধরে সংঘাত চললেও এখনো কোনো সমাধানের পথ তৈরি হয়নি। একই সঙ্গে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে প্রশাসনের ভেতরেও স্পষ্ট মতৈক্যের অভাব রয়েছে।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিসিকে বলেন, প্রেসিডেন্ট এত দীর্ঘ সংঘাতের জন্য প্রস্তুত ছিলেন না।
তার ভাষায়, প্রেসিডেন্ট খুবই বিরক্ত। তিনি মনে করেননি ইরানকে কোনো চুক্তিতে রাজি করানো এত কঠিন হবে। এটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে পরিণত হবে— এমন পরিকল্পনাও ছিল না।
আরেক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, প্রশাসনের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো যুদ্ধের পরবর্তী ধাপ নিয়ে কোনো ঐকমত্য না থাকা।
তিনি বলেন, কয়েকটি কৌশলগত সাফল্য এলেও স্পষ্ট নীতিগত দিকনির্দেশনা না থাকায় আমরা কৌশলগতভাবে পিছিয়ে পড়ছি। এতদিন পরও কোনো ঐক্য নেই।
এনবিসির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত সপ্তাহে জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে এক বৈঠকে ট্রাম্প এতটাই ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন যে তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে উচ্চস্বরে অশালীন ভাষাও ব্যবহার করেন।
তবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, এটি সত্য নয়। প্রেসিডেন্টের একটি শক্তিশালী দল রয়েছে, যাদের তিনি বিশ্বাস করেন। সবাই জানে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন প্রেসিডেন্টই।
তিনি আরও বলেন, ইরান সমঝোতা ভঙ্গ, মার্কিন সেনা হত্যা এবং হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালানো বন্ধ না করা পর্যন্ত ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানের পরিবর্তন হবে না।
অন্যদিকে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেলও প্রশাসনের মধ্যে বিভক্তির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, সেন্টকম প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন ইরান ইস্যুতে একই কৌশল ও লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন।
তবে এনবিসির প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রশাসনের ভেতরে মূলত দুটি মত রয়েছে। এক পক্ষ, যার নেতৃত্বে রয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং যাদের অবস্থানকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সমর্থন করেন, তারা ইরানের ওপর সামরিক চাপ আরও বাড়ানোর পক্ষে।
অন্যদিকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও জয়েন্ট চিফস চেয়ারম্যান ড্যান কেইনের নেতৃত্বাধীন আরেকটি পক্ষ দীর্ঘমেয়াদি কৌশল ছাড়া সংঘাত আরও বিস্তৃত করার ব্যাপারে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, স্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ ছাড়া হামলা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে আর কোনো ‘অন্তহীন যুদ্ধে’ না জড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত এখন প্রায় ছয় মাসে গড়িয়েছে এবং এখনো এর অবসানের কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে না।
সময়ের আলো/কেএইচ