আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণা সাময়িকী থেকে অনিয়মের অভিযোগে প্রত্যাহার হওয়া বাংলাদেশের ৩২৫টি গবেষণাপত্রের মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) গবেষকদের সম্পৃক্ততা রয়েছে ৩২টিতে। এসব গবেষণায় ভুয়া বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন (পিয়ার রিভিউ), তথ্য-উপাত্তের অসংগতি, চৌর্যবৃত্তি, একই তথ্য পুনর্ব্যবহার এবং গবেষণা প্রকাশে বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে।
সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক অনুসন্ধানে এ তথ্য উঠে আসে। অনুসন্ধান অনুযায়ী, প্রত্যাহার হওয়া গবেষণাপত্রের সংখ্যার বিচারে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পরেই রয়েছে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়। এর পরেই অবস্থান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের, যেখানে গবেষকদের নাম রয়েছে ৩২টি প্রত্যাহার হওয়া গবেষণাপত্রে।
এক শিক্ষকের নামেই ১০টি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার
প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উঠে এসেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. মোস্তাফিজুর রহমানের নাম। চিনি, টি-ব্যাগ, সুন্দরবনের পশুর নদ এবং কোভিড-১৯ ভাইরাসসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক গবেষণাপত্রে তিনি সহলেখক ছিলেন।
তবে আন্তর্জাতিক প্রকাশনা সংস্থাগুলোর তদন্তে তাঁর সম্পৃক্ত কয়েকটি গবেষণায় বাস্তব পরীক্ষার পরিবর্তে কাল্পনিক উপাত্ত ব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর সহলেখক হিসেবে প্রকাশিত ১০টি গবেষণাপত্র ইতোমধ্যে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, সুন্দরবনের প্লাস্টিক দূষণ নিয়ে ২০২২ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার না হলেও, পরবর্তীতে সেই গবেষণার একই তথ্য-উপাত্ত নতুন কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই ব্যবহার করে আরও কয়েকটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করা হয়। গবেষণা নীতিমালার দৃষ্টিতে বিষয়টি গুরুতর অনিয়ম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে অধ্যাপক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তিনি সবসময় সৎ থাকার চেষ্টা করেছেন। তাঁর ভাষ্য, গবেষণাগুলোর প্রকাশনা সংস্থার সঙ্গে মূল যোগাযোগ ছিল ব্রাজিলের গবেষক গুইলহার্ম মালাফাইয়ার। ফলে কোথায় কী ধরনের সমস্যা হয়েছে, তা তিনি সুনির্দিষ্টভাবে জানেন না।
গবেষণাপত্র প্রত্যাহারের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এই ঘটনার পর আমি সতর্ক হয়েছি।
সামগ্রিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষকদের সম্পৃক্ত অন্তত ৩২৫টি গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক সাময়িকী থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
গবেষণা প্রকাশে অনিয়মের এসব ঘটনা দেশের গবেষণার বিশ্বাসযোগ্যতা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশি গবেষকদের ভাবমূর্তির জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, গবেষণার মান ও নৈতিকতা নিশ্চিত করতে কঠোর তদারকি, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
সময়ের আলো/আতা