যশোরের অভয়নগর উপজেলার হিদিয়া, বর্ণী, মালাধারা, দিঘিরপাড়, চাকই, নওয়াপাড়া, বাগদাহ, চেংগুটিয়া, বাহিরঘাট ও প্রেমবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘেরের পাড়ে দেশীয় জাতের খিরা, শসা, বরবটি ও শিমের বাম্পার ফলন হয়েছে।
উৎপাদন ভালো হওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটলেও সংরক্ষণাগারের অভাব এবং দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ সড়কের কারণে উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
শনিবার (১ আগস্ট) সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ও মালাধরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, ভোর থেকেই কৃষকরা মনের পর মন খিরা ও অন্যান্য সবজি নিয়ে বাজারে আসছেন। বাজারে স্থানীয় ক্রেতাদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পাইকারদেরও ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
মালাধরা বাজার উন্নয়ন কমিটির সভাপতি আমজাদ আলী বলেন, গত আট বছর ধরে সকলের সহযোগিতায় মালাধরা খাজনা হাট পরিচালনা করে আসছি। বর্তমানে প্রতিদিন এ বাজারে ৮ থেকে ১০ ট্রাক দেশীয় জাতের খিরা বিক্রি হয়।
খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী, বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিদিন ৫০ জনেরও বেশি পাইকার খিরা কিনতে আসেন। টানা চার থেকে পাঁচ মাস এ বাজারে প্রতিদিন বড় পরিসরে খিরা বেচাকেনা হয় বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় কৃষক তরিকুল ইসলাম বলেন, মৌসুমের শুরুতে প্রতি মণ খিরা ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেছি। বর্তমানে দাম কমে প্রতি মণ ১ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার টাকায় নেমে এসেছে। তবে ভালো ফলনের কারণে কিছুটা লাভের আশা করছি।
তিনি আরও বলেন, এ অঞ্চলের অধিকাংশ কৃষক ঘেরের পাড়ে খিরা, শসা, বরবটি, শিমসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করেন। কিন্তু এলাকার সড়কগুলোর বেহাল অবস্থার কারণে বাজারে ফসল পৌঁছাতে অতিরিক্ত খরচ ও ভোগান্তি পোহাতে হয়। এতে কৃষকের লাভ কমে যায়।
মালাধরা বাজার ছাড়াও উপজেলার হিদিয়া, দিঘিরপাড়, চাকই, নওয়াপাড়া, বাগদাহ, চেংগুটিয়া, বাহিরঘাট ও প্রেমবাগ এলাকা থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার মণ খিরা ও বিভিন্ন ধরনের সবজি এ বাজারে আসে।
এ বিষয়ে অভয়নগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লাভলী খাতুন বলেন, এ অঞ্চলে সবজির উৎপাদন ভালো হয়েছে। তবে সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকদের উৎপাদিত ফসল প্রতিদিনই বিক্রি করতে হয়। আধুনিক সংরক্ষণাগার গড়ে উঠলে কৃষকরা আরও ভালো দাম পেতেন এবং তাদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসত।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, কৃষিপণ্য সংরক্ষণের আধুনিক ব্যবস্থা, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং দ্রুত গ্রামীণ সড়ক সংস্কার করা হলে অভয়নগরের সবজি উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষকদের অর্থনৈতিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে।
সময়ের আলো/আতা