সুস্থ সংস্কৃতি ও বিনোদনের চর্চা বিস্তারের পাশাপাশি জুলাই-২৪-এর ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের সত্য ও আত্মত্যাগকে নাটক-চলচ্চিত্রে তুলে ধরা এবং দেশের লোকজ ঐতিহ্য সংরক্ষণে তরুণ সাংবাদিকদের ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’ হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা।
রোববার বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যালয়ে আয়োজিত ‘তরুণ সাংবাদিকদের নিয়মিত সুস্থ সংস্কৃতি ও বিনোদন চর্চার পরিবেশ গঠন’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এ আহ্বান জানান।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, অপসংস্কৃতি, ভুয়া তথ্য এবং ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় ফ্যাক্ট-চেকিংভিত্তিক সাংবাদিকতা ও দেশীয় ঐতিহ্যনির্ভর সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ এখন সময়ের দাবি।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি বলেন, তরুণ ও শিশুদের শারীরিক এবং মানসিক বিকাশে সুস্থ বিনোদনের কোনো বিকল্প নেই। তিনি দাবি করেন, গত ১৭ বছরের শাসনামলে ‘নতুন কুঁড়ি’র মতো দেশব্যাপী সাংস্কৃতিক আয়োজন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিশু-কিশোরদের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হয়েছে। তিনি পালকি, বায়োস্কোপসহ দেশের লোকজ ঐতিহ্য সংরক্ষণে তরুণ সাংবাদিকদের সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ও বগুড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, একটি জাতির আত্মপরিচয় তার সংস্কৃতি ও ইতিহাসে প্রতিফলিত হয়। তিনি ভাওয়াইয়া, উচ্চাঙ্গসংগীতসহ লোকজ সংস্কৃতি সংরক্ষণের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন গেমে আসক্তি থেকে নতুন প্রজন্মকে ফিরিয়ে আনতে গবেষণাভিত্তিক সাংবাদিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
দৈনিক সমকালের সিনিয়র রিপোর্টার কামরুল হাসান বলেন, একটি দেশের শিক্ষা ও সংস্কৃতি ধ্বংস হলে সেই রাষ্ট্র দুর্বল হয়ে পড়ে। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে বিদেশি সংস্কৃতির প্রভাব দেশের নিজস্ব ঐতিহ্যকে সংকটের মুখে ফেলেছিল। তবে বর্তমানে ব্যান্ডসংগীত ও ভাওয়াইয়াসহ দেশীয় সংস্কৃতির বিভিন্ন আয়োজন আবারও সক্রিয় হওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি দেশের সুস্থ সাংস্কৃতিক পরিবেশ ও ঐতিহ্য রক্ষায় ধারাবাহিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির কল্যাণ সম্পাদক রফিক মৃধা বলেন, নৈতিক ও মানবিক বিষয়ক সংবাদ পরিবেশনে ফ্যাক্ট-চেকিংয়ের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ভাওয়াল গীতি, লোকসংগীত ও উচ্চাঙ্গসংগীতের মতো দেশীয় সংস্কৃতির চর্চা বাড়াতে হবে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন গেমে অতিরিক্ত আসক্তি থেকে তরুণদের সুস্থ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেন।
দৈনিক প্রথম আলোর স্টাফ রিপোর্টার নোমান ছিদ্দিকী বলেন, তরুণ সাংবাদিকদের আরও বেশি গবেষণাধর্মী সাংবাদিকতায় মনোযোগী হতে হবে। তিনি বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তারের ফলে সুস্থ সংস্কৃতি চর্চা নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তাই সমাজে সচেতনতা সৃষ্টি এবং সুস্থ সংস্কৃতি ও বিনোদন বিকাশে সাংবাদিকদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
সময়ের আলো/এসএকে