গাজায় টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে অন্তত ১৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। হামলার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির অগ্রগতির কথা জানালেও ইসরায়েলের জ্বালানিমন্ত্রী এলি কোহেন বলেছেন, গাজায় হামলা বন্ধের কোনো চুক্তি হয়নি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার (২ আগস্ট) ভোর থেকে গাজা সিটি, মধ্যাঞ্চলের দেইর আল-বালাহ এবং দক্ষিণের খান ইউনিসে একাধিক বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহের মধ্যে একদিনে এটিই সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা।
গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, হামাসসহ অন্যান্য ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী নিরস্ত্রীকরণে সম্মত হয়েছে। এতে যুদ্ধ অবসানের বিষয়ে নতুন আশার সৃষ্টি হয়েছিল। তবে রোববার ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার সদস্য ও জ্বালানিমন্ত্রী এলি কোহেন বলেন, হামাসকে অস্ত্র সমর্পণের সুযোগ দেওয়া হবে, কিন্তু তিনি এ বিষয়ে ‘খুবই সন্দিহান’।
ইসরায়েলের আর্মি রেডিওকে তিনি বলেন, গাজায় হামলা বন্ধের কোনো চুক্তি হয়নি। হামাস নিরস্ত্র না হলে গাজা উপত্যকার পুরো নিয়ন্ত্রণ নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে গাজার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের যে সমঝোতা হয়েছে, সেখানে প্রথম শর্তই হলো হামাসকে সম্পূর্ণ ভেঙে দিতে হবে।
পরে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের মুখপাত্র ডরন স্পিলম্যান রয়টার্সকে বলেন, হামাস সম্পূর্ণ ও কার্যকরভাবে নিরস্ত্র হওয়ার আগে কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যাবে না— এ উদ্বেগ যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে ইসরায়েল।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, দেইর আল-বালাহে এক হামলায় অন্তত চারজন নিহত হন। খান ইউনিসের কাছে আল-মাওয়াসি এলাকায় আরেকটি হামলায় পাঁচজন আহত হন এবং বাস্তুচ্যুতদের কয়েকটি তাঁবুতে আগুন ধরে যায়।
আল-মাওয়াসিতে একটি বাড়িতে হামলায় এক দম্পতি ও তাদের ৯ বছর বয়সী ছেলে নিহত হন। গাজা সিটিতে একটি অ্যাপার্টমেন্টে হামলায় আরেক দম্পতি ও তাদের সন্তান প্রাণ হারান। এছাড়া মিসরীয় প্রতিনিধি মিশনের কার্যালয়ের কাছে একটি তাঁবুতে হামলায় দুজন নিহত হন।
দিনের শেষদিকে গাজা সিটির জেইতুন এলাকায় আরও দুজন নিহত হন। উত্তর গাজার জাবালিয়ার কাছে পৃথক হামলায় নিহত হন আরও একজন। পরে গাজা সিটির সারায়া স্কয়ারের কাছে একটি গাড়িতে হামলায় অন্তত তিন ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার খবরও জানিয়েছে চিকিৎসকরা।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দেইর আল-বালাহর একটি অ্যাপার্টমেন্টে হামলার লক্ষ্য ছিল হামাসের বিশেষ ‘নুখবা’ ইউনিটের দুই কমান্ডার। গাজা সিটি ও জাবালিয়ার হামলাগুলোতেও ‘সামরিক সদস্যদের’ লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বোর্ড অব পিস, যা যুদ্ধবিরতি তদারকি করছে, শুক্রবার ১৫ দফার একটি রোডম্যাপ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির গাজাবিষয়ক প্রধান দূত নিকোলাই ম্লাদেনভ বলেন, রাজনৈতিক অগ্রগতির চেষ্টা চললেও গাজাজুড়ে হামলা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি এক্সে (সাবেক টুইটার) লেখেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষ, মধ্যস্থতাকারী ও আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে উত্তেজনা কমিয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছেন।
হামাস জানিয়েছে, তারা আলোচনায় ‘যথেষ্ট নমনীয়তা’ দেখিয়েছে। তবে সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ নেতা বাসেম নাইম অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক অগ্রগতির সময় হামলা বাড়িয়ে ইসরায়েল যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা নস্যাৎ করতে চাইছে এবং শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে নতুন বাস্তবতা তৈরি করছে।
অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক সাবেক ফাতাহ নেতা মোহাম্মদ দাহলান দাবি করেছেন, ট্রাম্পের জামাতা ও উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার তাকে জানিয়েছেন, গাজায় হামলা বন্ধে ইসরায়েলের সঙ্গে কাজ চলছে।
গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১ হাজার ২৩০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একই সময়ে চারজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইসরায়েল।
সময়ের আলো/কেএইচ