স্যাটেলাইটের নজর এড়িয়ে কোথায় আছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ও মোসাদ। কিন্তু পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি কোথায়

2026-08-03T21:19:58+00:00
2026-08-03T21:45:22+00:00
 
  সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬,
১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬
আন্তর্জাতিক
স্যাটেলাইটের নজর এড়িয়ে কোথায় আছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ৯:১৯ পিএম  আপডেট: ০৩.০৮.২০২৬ ৯:৪৫ পিএম
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। সংগৃহীত ছবি
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ও মোসাদ। কিন্তু পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি কোথায় আছেন সেটা নিশ্চিত করতে পারেনি তারা। নেই কোনো ফোন, ল্যাপটপ, নেই কোনো ডিজিটাল সিগন্যাল। তবুও ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রে রয়েছেন বলেই বিভিন্ন প্রতিবেদনের সূত্রে দাবি করা হয়েছে।    

তাহলে কোথায় আছেন মোজতবা খামেনি? কী এমন পাল্টা কৌশল নিয়েছে ইরান, যা স্যাটেলাইট আর সাইবার নজরদারিকেও অকার্যকর করে দিয়েছে? মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে আলোচিত রহস্যগুলোর একটি এখন মোজতবা খামেনিকে ঘিরে। 

দ্য টাইমসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মোসাদ এবং সিআইএ দীর্ঘদিন ধরে তার অবস্থান নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। তবে এখন পর্যন্ত তারা নিশ্চিত হতে পারেনি মোজতবা খামেনি জীবিত, নাকি তিনি হামলায় নিহত হয়েছিলেন। প্রায় ১৫০ দিনের বেশি সময় ধরে তিনি কোনো ফোন, কম্পিউটার বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করেননি। ফলে তার অবস্থান শনাক্তের মতো কোনো ডিজিটাল সূত্রই পাচ্ছে না গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।  

একসময় সাইবার নজরদারি ছিল তাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে ট্র্যাক করতে অতীতে ট্রাফিক ক্যামেরা থেকে শুরু করে নানা ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করা হতো। কিন্তু এবার সেই কৌশল আর কাজ করছে না। কারণ, ইরান নাকি পুরো যোগাযোগ ব্যবস্থাই বদলে দিয়েছে।

বার্তা আদান-প্রদান হচ্ছে হাতে লেখা নোটে। সেই নোট একাধিক কুরিয়ারের মাধ্যমে ধাপে ধাপে পৌঁছায়। ফলে পুরো যোগাযোগ চেইন সম্পর্কে একসঙ্গে কেউই জানে না।


এই কারণেই এখন প্রযুক্তির বদলে মানব গোয়েন্দা তথ্য— অর্থাৎ হিউমিন্টের ওপর নির্ভর করছে তদন্ত। গোয়েন্দাদের ধারণা, মোজতবার কাছাকাছি পৌঁছানোর একমাত্র উপায় হতে পারে তার অভ্যন্তরীণ বৃত্তের কাউকে তথ্যদাতা হিসেবে পাওয়া।      

আরও একটি দাবি ঘুরছে গোয়েন্দা মহলে। কেউ কেউ মনে করছেন, মোজতবা হয়তো হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন। আবার কেউ বলছেন, তিনি হয়তো বেঁচেই নেই। তবে এসব দাবির কোনোটিই স্বাধীনভাবে নিশ্চিত নয়। 

মোজতবার সম্ভাব্য আশ্রয়স্থল হিসেবে নজরে রয়েছে তেহরানের ভূগর্ভস্থ টানেল এবং কোমর কাছে নিরাপত্তাবেষ্টিত বাংকার। এমনকি বিভ্রান্তি তৈরি করতে ‘বডি ডাবল’ ব্যবহার করা হতে পারে বলেও কিছু সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তার দাবি।      

এদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে খুব কম তথ্যই সামনে এসেছে। মাঝে মাঝে লিখিত বার্তা প্রকাশিত হলেও, দীর্ঘ সময় ধরে তার কোনো প্রকাশ্য ভিডিও বা বক্তব্য দেখা যায়নি। আর সেই নীরবতাই আরও বাড়াচ্ছে রহস্য।

মোজতবা খামেনি সত্যিই কি ভূগর্ভস্থ কোনো বাংকারে লুকিয়ে আছেন? নাকি গোটা বিশ্ব এমন একজনকে খুঁজছে, যিনি আদৌ সেখানে নেই? এমনও প্রশ্ন রয়ে গেছে। 

নাকি মোজতবাকে ঘিরে এই ছায়াযুদ্ধ আরও গভীর হবে? সেই উত্তরই হয়তো বদলে দিতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার সমীকরণ।  

সময়ের আলো/ইউএমএইচ


  বিষয়:   ইরান  সর্বোচ্চ নেতা  মোজতবা খামেনি 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: