মিয়ানমারের কারাবন্দি সাবেক রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা ও নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অং সান সু চি দীর্ঘদিন পর আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির (আইসিআরসি) এক কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর এই প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধির সঙ্গে তার সাক্ষাতের বিষয়টি প্রকাশ্যে এলো।
সোমবার (৩ আগস্ট) রাজধানী নেপিডোতে আইসিআরসির মিয়ানমার প্রতিনিধি ও প্রতিনিধি দলের প্রধান আর্নো দ্য বেকের সঙ্গে সু চির সাক্ষাৎ হয় বলে জানিয়েছে মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র খাইন খাইন সোয়ে। পরে আইসিআরসিও এক বিবৃতিতে সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
আইসিআরসি জানায়, তাদের নিয়ম অনুযায়ী এ সাক্ষাৎ ব্যক্তিগত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় সু চি পরিবারের সদস্যদের জন্য বার্তা আদান-প্রদানের সুযোগও পেয়েছেন।
মিয়ানমার সরকার প্রকাশিত কয়েকটি ছবিতে দেখা যায়, ঐতিহ্যবাহী বার্মিজ পোশাক পরা সু চি একটি সাধারণ কক্ষে আইসিআরসি প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলছেন। আরেকটি ছবিতে তাকে নিজের জন্মদিনের কেক কাটতে দেখা যায়। তবে ছবিগুলো কোথায় ও কবে তোলা হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সু চির নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। এরপর থেকে তিনি আটক রয়েছেন।
অভ্যুত্থানের পর একাধিক গোপন বিচারে দুর্নীতি, নির্বাচনী জালিয়াতিতে উসকানি এবং রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাকে প্রথমে ৩৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে সাজা কমিয়ে ২৭ বছর এবং সর্বশেষ চলতি বছরের এপ্রিলে তা আরও কমিয়ে ১৮ বছর করা হয়।
সু চির রাজনৈতিক সহযোগীদের দাবি, তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তাকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতেই এসব মামলা দেওয়া হয়েছে।
সু চির স্বাস্থ্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। তার ছেলে কিম অ্যারিস গত ডিসেম্বরে রয়টার্সকে বলেন, কয়েক বছর ধরে তিনি মায়ের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে পারেননি। অন্যের মাধ্যমে শুধু হৃদ্রোগ, হাড় ও মাড়ির সমস্যার বিষয়ে বিচ্ছিন্ন কিছু তথ্য পেয়েছেন।
মিয়ানমারের সামরিক-সমর্থিত সরকার বরাবরই দাবি করে আসছে, সু চি সুস্থ আছেন। তবে তার স্বাস্থ্য স্বাধীনভাবে যাচাইয়ের সুযোগ দিতে আন্তর্জাতিক মহলের দাবি দীর্ঘদিনের।
গত এপ্রিলে সামরিক-সমর্থিত সরকারের অধীনে নির্বাচন শেষে সু চিকে কারাগার থেকে গৃহবন্দি অবস্থায় স্থানান্তর করা হয় বলে কর্তৃপক্ষ জানায়।
সম্প্রতি আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের পর থাইল্যান্ডের শীর্ষ কূটনীতিক সিহাসাক ফুয়াংকেতকেও সু চির সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। তবে এখন পর্যন্ত মিয়ানমার সরকার এ ধরনের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।
উল্লেখ্য, মিয়ানমারের স্বাধীনতার নায়ক জেনারেল অং সানের কন্যা অং সান সু চি অতীতেও সামরিক শাসনামলে প্রায় ১৫ বছর গৃহবন্দি ছিলেন।
সময়ের আলো/কেএইচ