ইন্দোনেশিয়ার প্রধান দ্বীপ জাভার উপকূলে একটি যাত্রীবাহী ফেরিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৪১ জন। উদ্ধারকারী দল ও আশপাশের জাহাজের সহায়তায় এখন পর্যন্ত ২২৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২ আগস্ট) সকালে মুতিয়ারা সেন্টোসা–২ নামের ফেরিটিতে আগুন লাগে। ফেরিটি পূর্ব জাভার সুরাবায়া শহর থেকে দক্ষিণ সুলাওয়েসির মাকাসার শহরের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। এতে মোট ২৭১ জন ছিলেন, যার মধ্যে ২৩২ জন যাত্রী এবং ৩৯ জন ক্রু সদস্য।
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা (বাসারনাস) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে মাদুরা দ্বীপের উত্তর উপকূলসংলগ্ন সুমেনেপ এলাকার জলসীমায় ফেরিটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়।
ফেরির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান পিটি অ্যাটোসিম লামপুং পেলায়ারান প্রায় এক ঘণ্টা পর সুরাবায়ার উদ্ধারকেন্দ্রে দুর্ঘটনার খবর জানায়। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ফেরির ক্যাপ্টেন আগুন লাগার বিষয়টি জানানোর পর তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
বাসারনাস প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ফেরির এক পাশ থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বের হয়ে পুরো জাহাজে ছড়িয়ে পড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, লাইফ জ্যাকেট পরা আতঙ্কিত যাত্রীরা ডেকে ও ফেরির সামনের অংশে জড়ো হয়েছেন। আগুন ও ধোঁয়া বাড়তে থাকলে অনেকে প্রাণ বাঁচাতে সাগরে ঝাঁপ দেন।
উদ্ধারকারী সংস্থা জানায়, সকাল ১০টার কিছু আগে একটি টাগবোট এবং আশপাশ দিয়ে যাওয়া আরেকটি জাহাজ ফেরিটির কাছে পৌঁছে যাত্রীদের সরিয়ে নিতে শুরু করে। পরে আরও কয়েকটি জাহাজ উদ্ধারকাজে অংশ নেয়।
রোববার বিকেল পর্যন্ত ২২৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এবং পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ ৪১ জনের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আগুন লাগার কারণ এখনও জানা যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ।
উদ্ধারকাজে সুরাবায়া থেকে একটি উদ্ধারজাহাজ পাঠানো হয়েছে, তবে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় লাগবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সুমেনেপ থেকে পাঠানো একটি দ্রুতগতির উদ্ধার নৌকা উত্তাল সাগর ও উঁচু ঢেউয়ের কারণে ফিরে আসে। পরে ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনীও একটি যুদ্ধজাহাজ উদ্ধার অভিযানে মোতায়েন করে।
প্রায় ১৬০ মিটার দীর্ঘ এই ফেরিটি সুরাবায়া-মাকাসার রুটে নিয়মিত চলাচল করে। সাধারণত প্রায় ৪০ ঘণ্টার এই যাত্রাপথে দেশীয় যাত্রী ও পণ্য পরিবহন করা হয়।
১৭ হাজারের বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত ইন্দোনেশিয়ায় নৌযানই অন্যতম প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম। তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে দেশটিতে প্রায়ই নৌ-দুর্ঘটনা ঘটে।
সময়ের আলো/কেএইচ