যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে নতুন দফার আলোচনা সোমবার থেকেই শুরু হবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, ইরানের ওপর পরিকল্পিত ‘বৃহৎ সামরিক হামলা’ শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হয়েছে।
রোববার (২ আগস্ট) এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এগোচ্ছি। আগামীকাল বিকেল থেকেই আলোচনা শুরু হবে।’ তবে বৈঠক কোথায় হবে বা এতে কারা অংশ নেবেন, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।
এর আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছিলেন, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা তাকে হামলা স্থগিত রাখতে অনুরোধ করেছে। তাদের বিশ্বাস, একটি সমঝোতার মৌলিক কাঠামো ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে।
তবে ট্রাম্পের এই দাবির বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইরান।
ট্রাম্প বলেন, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের নেতারা তাকে সামরিক হামলা থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করেছেন। তার ভাষায়, আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলাম। তারা বলেছে, একটি সমঝোতা হতে যাচ্ছে। হরমুজ প্রণালি নিয়ে চুক্তি হবে, পারমাণবিক ইস্যুতেও সমাধান আসবে।
তিনি আরও বলেন, আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না। পরিস্থিতি দেখি, প্রয়োজন হলে যেকোনো সময় ব্যবস্থা নিতে আমরা প্রস্তুত।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ ট্রাম্পের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। সংস্থাটি বলেছে, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রকে হামলা স্থগিতের কোনো অনুরোধ জানায়নি এবং ট্রাম্পের বক্তব্য ‘নতুন একটি মিথ্যা’ ছাড়া কিছু নয়।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রোববার বলেন, ওমানের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালি–সংক্রান্ত আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ের দিকে এগোচ্ছে।
ট্রাম্প দাবি করেন, পরিকল্পিত হামলা বাস্তবায়ন হলে সেটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় সামরিক হামলা হতো এবং এতে আলোচনার সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যেতে পারত।
তবে সম্ভাব্য হামলায় ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু ছিল কি না— এ প্রশ্নের জবাব দিতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বেসামরিক জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এদিকে ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাজিদ ইবন আল-রেজা বলেছেন, শত্রুপক্ষের যেকোনো হুমকিকে তেহরান বাস্তব ও বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করে।
তিনি বলেন, আমরা কখনোই অপ্রস্তুত থাকব না, আবার নিষ্ক্রিয়ও থাকব না।
ট্রাম্পের আলোচনার ঘোষণার পর সোমবার এশিয়ার বাজারে তেলের দাম কমেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৩ দশমিক ৯৮ ডলারে নেমে আসে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া অপরিশোধিত তেলের দাম কমে দাঁড়ায় ৮০ দশমিক ৭৪ ডলার।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়।
উল্লেখ্য, এর আগেও ট্রাম্প একাধিকবার ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়ে পরে আলোচনার সুযোগ দেওয়ার কথা বলেছেন। এপ্রিলেও তিনি ইরানকে শান্তি আলোচনায় না এলে ভয়াবহ পরিণতির সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। তবে সেসময় শুরু হওয়া আলোচনাও শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি।
সময়ের আলো/কেএইচ