রাজধানীর কদমতলী শনিরআখড়া এলাকার একটি মাদ্রাসা থেকে নাঈম ইসলাম শেখ (১২) নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (৩ আগস্ট) বিকাল সারে ৩টার দিকে কদমতলী শনির আখরা জোড়া খাম্বা এলাকার রওজাতুল উলুম হাফিজিয়া নূরানী মাদ্রাসার ৩য় তলা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়।
হাসপাতালে নাঈমের মা নাজমা আক্তার জানান, তাদের বাড়ি বরিশাল জেলার উজিরপুর থানার মোশন গ্রামে। বর্তমানে কদমতলির মুরাদপুর এলাকার ফজলুল হকের বাড়ির ভাড়া থাকেন। তাদের বাবার নাম বাবু শেখ। দুই ছেলের মধ্যে নাঈম ছিল বড়। দুই ছেলে রায়েরবাগ রওজাতুল উলুম হাফিজিয়া নূরানী মাদ্রাসার পড়াশুনা করে এবং সেখানেই থাকতো। আজ বিকালে মাদ্রাসার শিক্ষক ফোনে জানায় ছেলে নাঈম অসুস্থ। দ্রুত মাদ্রাসায় গিয়ে ছেলেকে মৃত অবস্থায় পায়। তবে তাদের আগে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
তিনি আরও জানান, গত শুক্রবার বাসায় খাবার রান্না করে নিয়ে দুই ছেলেকে দেখতে যাই। নাঈম আমাদের কিছু বলতে চেয়েছিল। এসময় জাকারিয়া নামে এক শিক্ষক সাথে থাকায় কিছু বলতে পারেনি। আমার ছেলে ফাঁসি দিতে পারে না। অন্য কোনো ঘটনা আছে। পুলিশ সদস্যদের তদন্ত করার অনুরোধ করেন তিনি।
কদমতলি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আমজাদ হোসেন জানান, বিকালে মাদ্রসার শিক্ষকদের মাধ্যমে খবর পেয়ে মাদ্রাসা যাই। এরপর ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করি। এসময় ওই শিক্ষার্থী শায়িত অবস্থায় ছিল। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আসলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
তিনি আরও জানান, মাদ্রাসার শিক্ষকদের মাধ্যমে জানা গেছে, দুপুরে নামাজের বাথরুমে ঢুকে ওই শিক্ষার্থী। অনেকক্ষণ ডাকাডাকির পর কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। এরপর মাদ্রাসার শিক্ষকরা দরজা ভেঙে দেখে কাপড় রাখার স্ট্যানের সাথে গলায় পড়নের পাঞ্জাবি পেচিয়ে ঝুলে আছে। এরপর নিজেরাই ঝুলন্ত থেকে নিচে নামায়। তবে অন্য কোনো ঘটনা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সময়ের আলো/কেএইচও