মস্তিষ্কের টিউমারের ধরন দ্রুত শনাক্ত করতে নতুন একটি জিনগত পরীক্ষা চালু করেছে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস)। নতুন এই প্রযুক্তির মাধ্যমে টিউমারের ধরন ও বৈশিষ্ট্য নির্ণয়ে ছয় থেকে আট সপ্তাহ অপেক্ষার বদলে প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যেই ফল পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ফলে রোগীরা দ্রুত চিকিৎসা শুরু করার সুযোগ পাবেন এবং রোগ নির্ণয়ের দীর্ঘ অনিশ্চয়তা কমবে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন পরীক্ষায় টিউমারের নমুনার জিনগত কোড দ্রুত বিশ্লেষণ করে এর ধরন ও বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্ত্রোপচারের সময়ই টিউমারের ধরন সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া গেলে চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের ধরন ও পরিমাণ নির্ধারণে আরও কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
নটিংহামের ৫৫ বছর বয়সী স্টিভ পালমার এই প্রযুক্তির সুবিধা পাওয়া প্রথম দিকের রোগীদের একজন। জিমে ব্যায়াম করার সময় হঠাৎ পড়ে যাওয়ার পর তাঁর মস্তিষ্কে টিউমার শনাক্ত হয়। পরীক্ষায় সেটি গ্রেড-৪ গ্লিওব্লাস্টোমা হিসেবে ধরা পড়ে। অস্ত্রোপচারের সময়ই চিকিৎসকেরা নতুন পরীক্ষার প্রাথমিক ফল পান।
স্টিভ বলেন, দ্রুত রোগ শনাক্ত হওয়ায় কয়েক সপ্তাহের উদ্বেগ থেকে তিনি মুক্তি পেয়েছেন। রোগটি গুরুতর হলেও দ্রুত পরবর্তী চিকিৎসা শুরু করে সুস্থতার পথে এগোতে পারছেন বলে জানান তিনি।
নটিংহাম ইউনিভার্সিটি হসপিটালস এনএইচএস ট্রাস্টের নিউরোসার্জন স্টুয়ার্ট স্মিথ বলেন, প্রচলিত পদ্ধতিতে মস্তিষ্কের টিউমারের পূর্ণ আণবিক ও জিনগত বিশ্লেষণে ছয় থেকে আট সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। নতুন পদ্ধতিতে অস্ত্রোপচার চলাকালেই প্রয়োজনীয় জিনগত তথ্য পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
পরীক্ষাটিতে টিউমার থেকে সংগ্রহ করা সামান্য টিস্যু জুতার বাক্সের মতো আকারের একটি সিকোয়েন্সিং যন্ত্রে বিশ্লেষণ করা হয়। অক্সফোর্ড ন্যানোপোরের তৈরি যন্ত্রটি ডিএনএ অণুকে ক্ষুদ্র একটি ছিদ্রের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করে টিউমারের স্বতন্ত্র জিনগত বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করে। এ কাজে নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরি বিশেষ সফটওয়্যারও ব্যবহার করা হচ্ছে।
চিকিৎসক সাইমন পেইন বলেন, মাইক্রোস্কোপে টিউমারের কোষ পর্যবেক্ষণ করে যে ধারণা পাওয়া যায়, নতুন প্রযুক্তি তার তুলনায় আরও বিস্তারিত আণবিক শ্রেণিবিন্যাস দিতে সক্ষম।
যুক্তরাজ্যে প্রতি বছর ১২ হাজারের বেশি মানুষের প্রাথমিক মস্তিষ্কের টিউমার শনাক্ত হয়। শিশু ও ৪০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে ক্যানসারে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণও এটি।
প্রাথমিকভাবে নটিংহাম, বার্মিংহাম, লন্ডন ও নিউক্যাসলের পাঁচটি বিশেষায়িত কেন্দ্রে পরীক্ষাটি চালু করছে এনএইচএস ইংল্যান্ড। পরে ব্রিস্টল, অক্সফোর্ড, লিডস ও ম্যানচেস্টারেও এটি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এনএইচএস কর্মকর্তারা বলছেন, পরীক্ষাটি সফল হলে ভবিষ্যতে নিয়মিত চিকিৎসাব্যবস্থার অংশ হতে পারে। দ্রুত রোগ শনাক্তের পাশাপাশি এর মাধ্যমে রোগীরা দ্রুত উপযুক্ত চিকিৎসা, ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসার সুযোগ পেতে পারেন।
সময়ের আলো/এসএকে