ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলগুলোতে প্রচলিত রাতের ‘সান্ধ্য আইন’ বাতিল এবং ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থীদের ২৪ ঘণ্টা অবাধ চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন একদল নারী শিক্ষার্থী। সোমবার বিকালে মধুর ক্যান্টিনে ‘অবরোধবাসিনী’ ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব দাবি তুলে ধরেন।
তাদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে অবিলম্বে ছাত্রী হলগুলোতে রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কার্যকর বৈষম্যমূলক সান্ধ্য আইন প্রত্যাহার করে সব ছাত্রীদের জন্য ২৪ ঘণ্টা অবাধ চলাচল ও সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; বৈধ পরিচয়পত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে যেকোনো ছাত্রীকে অন্য যেকোনো ছাত্রী হলে প্রবেশ এবং যথাযথ অনুমতি সাপেক্ষে রাতযাপনের সুযোগ প্রদান এবং সব নারী আত্মীয়ের হলে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।
এর আগে, গত ২৭ জুলাই ‘বৈষম্যহীন নারী হল চাই’ ব্যানারে একই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন শিক্ষার্থীরা।
সংবাদ সম্মেলনে ডাকসু সদস্য হেমা চাকমা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সব শিক্ষার্থীর জন্য সমান অধিকার, জ্ঞানচর্চার স্বাধীনতা এবং লিঙ্গনির্বিশেষে অবাধ চলাচলের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবচিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান নীতিমালা ও প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে নারী শিক্ষার্থীরা লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।
তিনি জানান, এর আগে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ছাত্রী হলে প্রতিবাদী গ্রাফিতি আঁকেন এবং হল ও অনুষদে বুথ স্থাপন করে ৬০০-এর বেশি স্বাক্ষর সংগ্রহ করেন। পাশাপাশি নারী শিক্ষার্থীদের নানা ভোগান্তির অভিজ্ঞতাও সংগ্রহ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা জানান, অবরোধবাসিনীর সংগৃহীত স্বাক্ষর আগামী ৬ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে উপাচার্যের কাছে জমা দেওয়া হবে।
স্মারকলিপি ও স্বাক্ষর জমা দেওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ১ থেকে ২ দিনের আলটিমেটাম দেওয়া হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাংগঠনিক সম্পাদক ইসরাত জাহান ইমু বলেন, বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৫৭ শতাংশ ছাত্রী আবাসন সুবিধা থেকে বঞ্চিত। নিয়মিত ফি পরিশোধ করলেও অনাবাসিক ছাত্রীরা নিজেদের হলেও প্রবেশ করতে পারেন না। নিরাপত্তার অজুহাতে রাতের বেলায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার ফলে তাদের হয়রানি, অপমানজনক জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রশাসনিক ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়।
নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ছাত্র ফেডারেশনের নেত্রী সিমা আক্তার বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সারা দেশের জন্য একটি উদাহরণ। যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ই নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারে, তা হলে গ্রামাঞ্চলের নারীদের নিরাপত্তার অবস্থা কী হবে?’
সংবাদ সম্মেলন থেকে তারা শিক্ষক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, সাংবাদিক, আবাসিক ও অনাবাসিক সব ছাত্রী এবং সচেতন শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ‘নারী শিক্ষার্থীদের ওপর আরোপিত শৃঙ্খল ভাঙার আন্দোলন’ সফল করার আহ্বান জানান।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি