মান খারাপ হওয়ায় ভারতের সাড়ে ১১ হাজার টন চাল ফেরত পাঠাল বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অর্থনীতি

ভারত থেকে আসা ১১ হাজার ৫০০ টন সেদ্ধ চালের একটি চালান বাংলাদেশ গ্রহণ করেনি। বিষয়টি নিয়ে ভারতে নতুন করে বিতর্ক

2026-08-04T13:25:25+00:00
2026-08-04T13:25:25+00:00
 
  মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬,
২০ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬
অর্থনীতি
মান খারাপ হওয়ায় ভারতের সাড়ে ১১ হাজার টন চাল ফেরত পাঠাল বাংলাদেশ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ১:২৫ পিএম 
ভারত থেকে আসা ১১ হাজার ৫০০ টন সেদ্ধ চালের একটি চালান বাংলাদেশ গ্রহণ করেনি। সংগৃহীত ছবি
ভারত থেকে আসা ১১ হাজার ৫০০ টন সেদ্ধ চালের একটি চালান বাংলাদেশ গ্রহণ করেনি। বিষয়টি নিয়ে ভারতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ভারতের সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য মহলের অনেকে এই চালান প্রত্যাখ্যানের পেছনে রাজনৈতিক কারণ রয়েছে বলে মনে করছেন।   

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু বিজনেসলাইনের খবরে বলা হয়, চালানটি গত ২১ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। এরপর চালের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবে ২২ জুলাই চালানটির যে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল, তা পরীক্ষার পর মানবদেহের জন্য নিরাপদ বা ‘মানুষের খাওয়ার উপযোগী’ বলে সনদ দেওয়া হয়। চালটি ছিল বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত সরকার টু সরকার চুক্তির আওতায় আনা।

চাল খাওয়ার উপযোগী বলে সনদ পাওয়ার পর জাহাজটিকে চাল খালাসের অনুমতি দেওয়া হয়। ২৩ ও ২৪ জুলাই চালের একটি অংশ খালাস করা হয়। খালাস করা চালের কিছু অংশ ঢাকার তেজগাঁও, হালিশহর ও দেওয়ানহাটের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণাগারে (সিএসডি) পাঠানো হয়। এর পাশাপাশি কিছু চাল জয়দেবপুরের স্থানীয় সংরক্ষণাগারেও পাঠানো হয়।

এরপর, গত ২৫ জুলাই তেজগাঁও ও হালিশহরের কর্মকর্তারা জানান, চালের মান ভালো নয় এবং এটি মানুষের খাওয়ার উপযোগী নয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিষয়টি খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালককে জানানো হয়। 

ভারতের ব্যবসায়ীরা প্রশ্ন তুলে বলেছেন, ভারতীয় চাল নিয়ে বাংলাদেশ হঠাৎ করে কেন সমস্যায় পড়ল? এক ভারতীয় ব্যবসায়ী বলেন, আমরা বছরের পর বছর বাংলাদেশে চাল সরবরাহ করে আসছি। গত বছরের শেষ দিকে বাংলাদেশ যখন পাকিস্তান থেকে চাল কিনতে গিয়েছিল এবং সেটি ব্যয়বহুল বলে মনে হয়েছিল, তখন তারা আবার আমাদের কাছেই ফিরে আসে। এখন তারা খেলায় নেমেছে।  

আরেক ব্যবসায়ী বলেন, এ ধরনের ‘রাজনৈতিক খেলা’ আরও কিছুদিন চলতে পারে। তিনি বলেন, কিন্তু এখন যখন একটি এল নিনো বছর চলছে এবং এর স্থায়িত্ব আরও দীর্ঘ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে, তখন এ ধরনের রাজনীতির জন্য বাংলাদেশকে বড় মূল্য দিতে হতে পারে। বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় ব্যবসায়ীরা নিজেদের নাম প্রকাশ করে মন্তব্য করতে চাননি।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, এমভি এইচটি পাইওনিয়ার নামের জাহাজটি থেকে মাত্র ৩ হাজার ৫০০ টন চাল খালাস করা হয়েছে। বাকি চাল খালাসের অনুমতি দেওয়া হয়নি। 

প্রথম ভারতীয় ব্যবসায়ী বলেন, পুরো চালানটিই এখন ভারতে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। তবে তিনি মনে করেন, এই একটি চালান প্রত্যাখ্যানের কারণে বড় কোনো প্রভাব পড়বে না। 

এদিকে, ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের পর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে এই সরকার টু-সরকার চাল আমদানির চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এক ভারতীয় রফতানিকারক একটি বহুজাতিক কোম্পানির মজুত থেকে চাল সংগ্রহ করেছিলেন। তৃতীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে খাদ্য অধিদফতরের ভেতরে থাকা কিছু সংস্থাকে ঘিরে, যারা শেখ হাসিনা সরকারের আমলে একচেটিয়া বা একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিল।  

তার দাবি, ওই প্রতিষ্ঠানের বিরোধীরা এখন একজোট হয়ে তাদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করছে। আর এর পরোক্ষ শিকার হয়েছে ভারতীয় চালের এই চালান।

প্রসঙ্গত, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারত ১৩ লাখ ৬০ হাজার টন বাসমতী নয়, এমন জাতের চাল রপ্তানি করেছে। এর বেশির ভাগই ছিল সেদ্ধ চাল। এসব চালের মোট রফতানি মূল্য ছিল ৫৪৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত ৮ লাখ ৯ হাজার টন নন-বাসমতী চাল রফতানি করেছিল, যার মূল্য ছিল ৩৫৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। চলতি অর্থবছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে ভারত ১ লাখ ৬০ হাজার টন চাল রফতানি করেছে। এর মোট মূল্য ছিল ৮ দশমিক ১৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।  


সময়ের আলো/ইউএমএইচ


  বিষয়:   ভারত  বাংলাদেশ  চাল 


Loading...
Loading...
অর্থনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: