ভারত-চীনের গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তপথ ‘নাথু লা পাস’ ছয় বছর বন্ধ থাকার পর আবারও খুলে দেওয়া হয়েছে। শনিবার (১ আগস্ট) সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪ হাজার ৩১০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এই পথ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়। ভারতের সিকিম রাজ্যের সঙ্গে চীনের তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলকে সংযুক্ত করা এই পথ একসময় প্রাচীন সিল্ক রুটেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।
‘নাথু লা পাস’টি পুনরায় খুলে দেওয়ায় দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে বাণিজ্য কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে নাথু লা পাসের অবকাঠামো আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। নয়াদিল্লিভিত্তিক কাউন্সিল ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্টের অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ বিশ্বজিৎ ধরের মতে, নাথু লা পাসের ল্যান্ড কাস্টমস স্টেশনকে পূর্ণাঙ্গ সমন্বিত চেকপোস্টে রূপান্তর করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সীমান্তে ভারত যেভাবে গুদাম, কোয়ারেন্টাইন সুবিধা ও অন্যান্য অবকাঠামোসহ সমন্বিত চেকপোস্ট গড়ে তুলেছে, নাথু লা পাসেও একই ধরনের ব্যবস্থা করা গেলে নিরবচ্ছিন্ন ও ঝামেলামুক্ত বাণিজ্য নিশ্চিত হবে।
নাথু লা পাসের বাণিজ্যের ইতিহাস নানা উত্থান-পতনের সাক্ষী। ১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধের পর দীর্ঘ সময় এই পথ বন্ধ ছিল। পরে ২০০৬ সালে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে সীমান্তপথটি পুনরায় চালু হয়। সে সময় ভারত থেকে চাল, আটা, চা, তামাক ও তামাজাত পণ্য রপ্তানি হতো। অন্যদিকে চীন থেকে ইয়াকের লেজ, উল, কাঁচা রেশম, ঘোড়া, লবণ ও মাখন আমদানি করা হতো।
গবেষক সাঙ্গে লাচেনপার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে নাথু লা পাস দিয়ে রেকর্ড ৯ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাণিজ্য হয়। তবে ২০১৭ সালে সীমান্ত উত্তেজনার কারণে সেই পরিমাণ কমে ১ মিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। ২০১৯ সালে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে বাণিজ্যের পরিমাণ আবার ৫ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছে।
এরপর ২০২০ সালে কোভিড-১৯ মহামারি এবং গালওয়ান উপত্যকায় ভারত-চীনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর সীমান্তপথটি আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়।
সম্প্রতি সীমান্ত উত্তেজনা কমিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে নাথু লা পাস পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেয় দুই দেশ। ২০২৪ সালের আগস্টে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শুরু হয়। বিশেষ প্রতিনিধিদের মধ্যে ২৪ দফা বৈঠকের পর নাথু লা পাসের পাশাপাশি হিমাচল প্রদেশের শিপকি লা এবং উত্তরাখণ্ডের লিপুলেখ পাসও পুনরায় খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সময়ের আলো/এসএকে