ভারতে ড্রোন বিক্রি করা ট্রাম্পঘনিষ্ঠ কোম্পানির সঙ্গে পাকিস্তানের চুক্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন একটি ড্রোন কোম্পানি পাওয়ারাসের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় চুক্তি করেছে পাকিস্তান। কোম্পানিটিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই ছেলে ডোনাল্ড

2026-09-23T16:47:46+00:00
2026-09-23T16:47:46+00:00
 
  বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৮ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ভারতে ড্রোন বিক্রি করা ট্রাম্পঘনিষ্ঠ কোম্পানির সঙ্গে পাকিস্তানের চুক্তি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৪৭ পিএম 
পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ড্রোন কোম্পানি পাওয়ারাসের কর্মকর্তা ও ইসলামাবাদে মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তারা। ছবি : আলজাজিরা
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন একটি ড্রোন কোম্পানি পাওয়ারাসের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় চুক্তি করেছে পাকিস্তান। কোম্পানিটিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও এরিক ট্রাম্পের বিনিয়োগ রয়েছে। তবে একই কোম্পানি ভারতের কাছেও ড্রোন প্রযুক্তি বিক্রি করছে। আবার কোম্পানিটির এক সহপ্রতিষ্ঠাতা ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সাবেক সদস্য। এসব কারণে পাকিস্তানের সঙ্গে এই চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৬ সেপ্টেম্বর রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের সামরিক সদর দফতরে পাওয়ারাসের একটি প্রতিনিধিদল দেশটির সামরিক বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করে।  

এর একদিন পর পাওয়ারাস জানায়, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের কাছ থেকে মানববিহীন আকাশযান বা ড্রোনের একটি ‘সীমিত ক্রয়াদেশ’ দিয়েছে। একই সঙ্গে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকও সই করেছে কোম্পানিটি। 

তবে এই চুক্তির আর্থিক মূল্য কত এবং কী ধরনের ড্রোন কেনা হচ্ছে, তা জানানো হয়নি।

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর জানিয়েছে, বৈঠকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনা, উৎপাদন এবং সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে তাদের বিবৃতিতে সমঝোতা স্মারকের কথা বলা হয়নি। 

পাওয়ারাস জানিয়েছে, সমঝোতা স্মারকটি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে সই হয়েছে। আর ড্রোনের ক্রয়াদেশ দিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। কোম্পানির ভাষ্য, এই সমঝোতা চূড়ান্ত কোনো চুক্তি নয় এবং এর মাধ্যমে পাকিস্তানকে পণ্য কেনার বাধ্যবাধকতাও দেওয়া হয়নি। এ জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আইন ও সরকারি অনুমোদনও প্রয়োজন হবে।

ভারতের সঙ্গেও চুক্তি

পাকিস্তানের সঙ্গে চুক্তির আগে ভারতের একটি প্রতিরক্ষা কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করেছে পাওয়ারাস।

গত ৩০ জুন ভারতের প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান প্যারাস ডিফেন্স অ্যান্ড স্পেস টেকনোলজিস জানায়, ভারতে পাওয়ারাসের ‘গার্ডিয়ান-১’ ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তি তৈরি ও বিক্রির একচেটিয়া অধিকার পেয়েছে তারা।

ভারত ও পাকিস্তান দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী। গত বছরের মে মাসে দুই দেশের মধ্যে কয়েক দিনের সংঘাতেও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছিল।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকেরা বলছেন, পাকিস্তানের সামরিক কর্মকর্তারা ভারতের সঙ্গে পাওয়ারাসের চুক্তির বিষয়টি জানতেন বলেই ধারণা করা যায়। একই কোম্পানি থেকে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের সামরিক সরঞ্জাম কেনায় নিরাপত্তা নিয়ে কিছু ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

কোম্পানিতে ইসরায়েলি যোগসূত্র

পাওয়ারাসের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কোম্পানির ওয়েবসাইটে সহপ্রতিষ্ঠাতা জিভ মারোমকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সাবেক সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি কাইজেন অ্যারোস্পেস নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন, যা এখন পাওয়ারাসের সহযোগী প্রতিষ্ঠান।

কোম্পানির আরেক কর্মকর্তা জাস্টিন গ্যান্স যুক্তরাষ্ট্রের নেভি সিলের সাবেক সদস্য। তিনি ২০১৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান এলবিট সিস্টেমসের যুক্তরাষ্ট্রের শাখায় ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন।

পাকিস্তান ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয় না। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়েও পাকিস্তান কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

পাকিস্তানের এক অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল আল জাজিরাকে বলেন, বড় ধরনের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রে কোনো কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীতে কাজের বিষয়টি সাধারণত গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা হয়।

পাকিস্তানের নিজেদেরও ড্রোন আছে

পাকিস্তানের নিজস্ব ড্রোন তৈরির সক্ষমতা রয়েছে। দেশটির বিমানবাহিনী তুরস্কের বায়রাকতার টিবি-২ ও আকিনজি, চীনের উইং লুং-২ এবং পাকিস্তানে তৈরি শাহপার-২ ড্রোন ব্যবহার করে।

এ ছাড়া ড্রোন ঠেকাতে চীনের এইচকিউ-১৭এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং তুরস্কের কোরকুট ও সাহিন ব্যবস্থাও পাকিস্তান ব্যবহার করছে।

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের অস্ত্র আমদানির ৮০ শতাংশ এসেছে চীন থেকে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক বিলাল খান বলেন, পাকিস্তানের জন্য ড্রোনের নকশা পাওয়া বড় সমস্যা নয়। বরং অল্প সময়ে বড় সংখ্যায় ড্রোন তৈরি করে সামরিক বাহিনীতে যুক্ত করাই বড় চ্যালেঞ্জ।


পাকিস্তানের এক অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা বলেন, দেশটির আগ্রহ শুধু ড্রোন তৈরিতে নয়; ড্রোনের ইলেকট্রনিকস, বিভিন্ন প্রযুক্তি একসঙ্গে ব্যবহার এবং পুরো ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করার ক্ষেত্রেও হতে পারে।

পাওয়ারাসের ‘গার্ডিয়ান’ ড্রোনগুলো ছোট এবং তুলনামূলক কম খরচের। এগুলো আকাশে আসা অন্য ড্রোন ধ্বংস করতে ব্যবহার করা যায়। প্রচলিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় দামি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হয়। সে তুলনায় ইন্টারসেপ্টর ড্রোন দিয়ে কম খরচে ড্রোন ঠেকানো সম্ভব।

চীন ও তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্কে প্রভাব পড়বে?

পাকিস্তানের সঙ্গে পাওয়ারাসের চুক্তিতে দেশটির পুরোনো প্রতিরক্ষা অংশীদার চীন ও তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।

তবে কিছু বিশ্লেষকের মতে, পাওয়ারাসের ড্রোন প্রযুক্তি তুরস্কের সঙ্গে পাকিস্তানের চলমান প্রকল্পের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতায় পড়বে না। আবার পাকিস্তানে পাওয়ারাসের ড্রোন তৈরি হলেও এর কিছু যন্ত্রাংশ চীন থেকে আমদানি করতে হতে পারে।

পাওয়ারাসের সঙ্গে এই চুক্তি হয়েছে এমন এক সময়ে, যখন পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর প্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। গত ১৫ মাসে ট্রাম্প একাধিকবার মুনিরের প্রশংসা করেছেন।

গত বছর পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের একটি কোম্পানির সঙ্গে ৫০ কোটি ডলারের গুরুত্বপূর্ণ খনিজসংক্রান্ত চুক্তি করে। এরপর মুনির ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে পাকিস্তান ট্রাম্প পরিবারের ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসা ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়ালের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও সমঝোতা স্মারক সই করে।

বিশ্লেষকদের মতে, পাওয়ারাসের সঙ্গে বর্তমান চুক্তি ভবিষ্যতে বড় ধরনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় রূপ নেয় কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

সূত্র : আল-জাজিরা 

সময়ের আলো/ইউএমএইচ
  বিষয়:   ভারত  ট্রাম্প  ড্রোন  পাকিস্তান  চুক্তি 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: