যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ব্রাজিলের ওয়াশিংটনস্থ রাষ্ট্রদূত মারিয়া লুইজা রিবেইরো ভিওত্তির ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর।
মার্কিন এক কর্মকর্তা জানান, গত মাসে ব্রাজিল দুই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তাকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ভিসা বাতিলের অর্থ এই নয় যে ভিওত্তিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হচ্ছে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, এটি একটি ‘পারস্পরিক (রেসিপ্রোকাল) ব্যবস্থা’। তিনি জানান, ব্রাজিল সরকারকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য কয়েক সপ্তাহ ধরে সুযোগ দেওয়া হলেও তারা বারবার বিষয়টি বিলম্বিত করেছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রয়োজনে আরও কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
অন্যদিকে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তা দেশটির আসন্ন নির্বাচনে ‘হস্তক্ষেপ’ করতে চেয়েছিলেন। তবে ওয়াশিংটন এ অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্সি বিবিসিকে জানিয়েছে, রাষ্ট্রদূতের ভিসা বাতিলের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র যে কারণ দেখিয়েছে, তা ‘মিথ্যা’।
গত জুলাইয়ের শেষ দিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দুই কর্মকর্তা ব্রাজিল সফরে যাওয়ার কথা ছিল। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সফরের উদ্দেশ্য ছিল মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনা করা। এছাড়া তারা সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে ও ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারোর সঙ্গেও বৈঠক করার পরিকল্পনা করেছিলেন।
জাইর বলসোনারো সর্বশেষ নির্বাচনে পরাজয়ের পর অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।
সম্প্রতি ফ্লাভিও বলসোনারো দাবি করেছিলেন, ব্রাজিলের ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের উৎস ভেনেজুয়েলার ব্যবহৃত প্রযুক্তির সঙ্গে মিল রয়েছে এবং তিনি ভেনেজুয়েলায় নির্বাচনী জালিয়াতি নিয়ে সিআইএর একটি প্রতিবেদনেরও উল্লেখ করেন। পরে তিনি বলেন, তিনি নির্বাচনী ব্যবস্থার সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলেননি; বরং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের সংখ্যা বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছিলেন।
তবে এ ঘটনার পর ব্রাজিল সরকার অভিযোগ তোলে, মার্কিন প্রতিনিধিদল ভিত্তিহীনভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি করতে পারে। এ কারণেই ওই দুই কর্মকর্তাসহ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের ভিসা আটকে দেওয়া হয়।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্সি জানায়, ওই সফর ছিল দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ‘অগ্রহণযোগ্য হস্তক্ষেপের চেষ্টা’।
ব্রাজিলের সুপিরিয়র ইলেকটোরাল কোর্ট ইতোমধ্যে ফ্লাভিও বলসোনারোর ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনসংক্রান্ত অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রাজিলের নির্বাচন ব্যবস্থা বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ ব্যবস্থা।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোনীত ব্রাজিলে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত ড্যানিয়েল পেরেজের নিয়োগেও এখনো সম্মতি দেয়নি ব্রাজিল সরকার। ফ্লোরিডার অঙ্গরাজ্যের এই রাজনীতিক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ব্রাজিলের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ, ব্রাজিলের কয়েকটি অপরাধী গোষ্ঠীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা এবং লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে একের পর এক বিরোধ তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট লুলা প্রকাশ্যে মার্কো রুবিওর নেতৃত্বাধীন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের লাতিন আমেরিকান রাজনীতিতে ক্রমবর্ধমান হস্তক্ষেপেরও সমালোচনা করেছেন।
সময়ের আলো/কেএইচ