যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অগ্রগতি এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনার মধ্যে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার। এর প্রভাব হিসেবে বুধবার এশিয়ার লেনদেনে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা বেড়েছে।
বুধবার টোকিও সময় সকাল ১০টা ৫৮ মিনিট পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২৭ সেন্ট বা ০.৩৪ শতাংশ বেড়ে ৭৯.৬১ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট অপরিশোধিত তেলের দাম ১১ সেন্ট বা ০.১৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৭৫.৮৮ ডলার।
সপ্তাহের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার পরিকল্পনা স্থগিত এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর লক্ষ্যে দুই পক্ষ আলোচনা করছে বলে জানানোর পর তেলের বাজারে বড় ধরনের পতন দেখা যায়। সে সময় ব্রেন্টের দাম প্রায় ৭ শতাংশ কমে তিন সপ্তাহের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের কারণে তেলের দামে যে অতিরিক্ত ঝুঁকি-প্রিমিয়াম যোগ হয়েছিল, ট্রাম্পের বক্তব্যের পর তার বড় অংশই বাজার থেকে সরে যায়। তবে এখনো পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি বলে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় নিরাপদভাবে চালু হবে কি না, সেটিই এখন বাজারের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
বিশ্লেষকদের মতে, কেবল চুক্তি ঘোষণা করলেই জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হবে না। ট্যাংকার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা, নৌ-চলাচল এবং বীমা-সংক্রান্ত নিশ্চয়তা পাওয়ার পরই নিয়মিত পরিবহন শুরু হবে।
এ কারণে ওয়াশিংটন, তেহরান এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের যেকোনো নতুন খবরে তেলের বাজার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে।
তেলের বাজারে ওপেক প্লাস-এর উৎপাদন নীতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
রোববার জোটটি দৈনিক প্রায় ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানি স্বাভাবিক হলে এই অতিরিক্ত সরবরাহ তেলের দামের ওপর নিম্নমুখী চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত থাকলে এই অতিরিক্ত উৎপাদন আঞ্চলিক সরবরাহ ঘাটতি পুরোপুরি পূরণ করতে পারবে না।
সময়ের আলো/কেএইচ