যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে নতুন সদস্য নিয়োগের প্রচারে বাইবেলের উদ্ধৃতি ব্যবহার করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন দেশটির যুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী পিট হেগসেথ। টেক্সাস এ অ্যান্ড এম ইউনিভার্সিটিতে তরুণ শিক্ষার্থীদের সামনে তিনি ‘সেন্ড মি’ স্লোগান দেন। সেখানে একপর্যায়ে ‘ইসলামপন্থীদের বিরুদ্ধে লড়তে আমাকে পাঠান’ বলেও স্লোগান তোলেন তিনি।
হেগসেথের এই ‘সেন্ড মি ট্যুর’ বাইবেলের পুরোনো নিয়মের ইশাইয়া গ্রন্থের ষষ্ঠ অধ্যায়ের অষ্টম পদ থেকে নেওয়া। ওই অংশে ঈশ্বর প্রশ্ন করেন, ‘আমি কাকে পাঠাব?’ জবাবে নবী ইশাইয়া বলেন, ‘প্রভু, আমি এখানে। আমাকে পাঠান।’
সপ্তাহান্তে টেক্সাস এ অ্যান্ড এম ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত কর্মসূচিতে হেগসেথ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছরের ইতিহাসে বহু নারী-পুরুষ দেশের জন্য কাজ করতে ডান হাত তুলে ‘সেন্ড মি’ বলেছেন। এরপর তিনি স্লোগান দেন— ‘রেডকোটদের বিরুদ্ধে লড়তে আমাকে পাঠান, কমিউনিস্টদের বিরুদ্ধে লড়তে আমাকে পাঠান, ইসলামপন্থীদের বিরুদ্ধে লড়তে আমাকে পাঠান।’
বাইবেলের ধর্মীয় ভাষা সামরিক নিয়োগের কাজে ব্যবহারের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি খ্রিষ্টান ধর্মীয় গোষ্ঠীও সমালোচনা করেছে। মেথডিস্ট ধর্মযাজক বেঞ্জামিন ক্রেমার অভিযোগ করেন, এটি মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর লঙ্ঘন এবং ধর্মীয় গ্রন্থ ব্যবহার করে সামরিক সেবাকে খ্রিষ্টান ধর্মীয় ক্রুসেডের মতো উপস্থাপনের চেষ্টা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও হেগসেথের বক্তব্যের সমালোচনা হয়েছে। এক সমালোচক বলেন, ইশাইয়ার ‘সেন্ড মি’ বক্তব্যের অর্থ ছিল প্রাচীন ইসরায়েলিদের কাছে অনুতাপ ও ঈশ্বরের বিচারের বার্তা প্রচারের দায়িত্ব নেওয়া; বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ করার আহ্বান নয়।
সামরিক কর্মকাণ্ডে খ্রিষ্টীয় ধর্মীয় ভাষা ব্যবহারের অভিযোগে এর আগেও হেগসেথ সমালোচিত হয়েছেন। চলতি বছরের এপ্রিলে পেন্টাগনে একটি খ্রিষ্টান প্রার্থনা ও উপাসনা অনুষ্ঠানে তিনি কোয়েন্টিন ট্যারান্টিনোর ১৯৯৪ সালের পুলপ ফিকশন সিনেমার একটি কাল্পনিক অংশকে বাইবেলের উদ্ধৃতি হিসেবে পড়েছিলেন।
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধকেও ধর্মীয় দায়িত্ব হিসেবে উপস্থাপনের অভিযোগ রয়েছে হেগসেথের বিরুদ্ধে। পেন্টাগনের একটি প্রার্থনা অনুষ্ঠানে তিনি শত্রুদের বিরুদ্ধে ‘অতিরিক্ত মাত্রায় সহিংসতা’ প্রয়োগের আহ্বান জানান এবং ‘ন্যায়পরায়ণতা ও মহান জাতির শত্রুদের’ বিরুদ্ধে ব্যবহৃত প্রতিটি গুলি লক্ষ্যভেদ করার প্রার্থনা করেন।
মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর দিকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন শাখার কমান্ডাররা তাঁদের ইউনিটকে বলেছিলেন, এই যুদ্ধ ‘যিশুর অনুমোদিত’ এবং এর মাধ্যমে পৃথিবীতে তাঁর প্রত্যাবর্তনের পথ তৈরি হবে। এ নিয়ে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের কাছ থেকে দুই শতাধিক অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়েছিল সামরিক ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা সংগঠন মিলিটারি রিলিজিয়াস ফ্রিডম ফাউন্ডেশন।
সময়ের আলো/কেএইচ