হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল দৃশ্যমানভাবে কমে গেলেও মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো থেকে রপ্তানি অব্যাহত রয়েছে। তবে কিছু তেলবাহী জাহাজ স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা (এআইএস) বন্ধ রেখে চলাচল করায় জাহাজের গতিবিধির সব তথ্য ট্র্যাকিং ব্যবস্থায় ধরা পড়ছে না। রয়টার্সের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে গালফ নিউজ।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহান্তে হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র ১২টি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে। এর আগের সপ্তাহান্তে এ সংখ্যা ছিল ৩৫টি।
তবে সোমবার রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহান্তে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ১৭টি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে। এর আগের সপ্তাহান্তে এ সংখ্যা ছিল ৩৭টি। যুদ্ধের আগের স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২৫টি জাহাজ এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করত।
কেপলার জাহাজের ট্রান্সপন্ডার ও স্যাটেলাইটের তথ্য ব্যবহার করে জাহাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে। কিন্তু এআইএস বন্ধ রাখা জাহাজগুলো এবং জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তরের ঘটনা তাদের তথ্যের বাইরে থেকে যাচ্ছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওমানের কাছ দিয়ে দক্ষিণ দিকের পথে কয়েক ডজন জাহাজ এআইএস বন্ধ রেখে চলাচল করছে। ফলে হরমুজ প্রণালিতে দৃশ্যমান জাহাজ চলাচলের তথ্য দিয়ে উপসাগরীয় তেল রপ্তানির প্রকৃত চিত্র পুরোপুরি বোঝা যাচ্ছে না।
এর একটি উদাহরণ হিসেবে রয়টার্স জানিয়েছে, ‘পিনিওস’ নামের একটি ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার (ভিএলসিসি) উপসাগরের বাইরে ফুজাইরাহর কাছে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল ইরাকি অপরিশোধিত তেল আরেকটি ভিএলসিসি ‘নিউ কনস্ট্যান্ট’-এ স্থানান্তর করেছে। পরে নিউ কনস্ট্যান্ট জাহাজটি চীনের দিকে রওনা হয়।
কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ২০ সেপ্টেম্বর রোববার চারটি শনাক্তযোগ্য জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বের হয়েছে। এর মধ্যে দুটি জাহাজে পরিশোধিত তেলজাত পণ্য ছিল। একই দিনে দুটি ছোট তেলবাহী জাহাজ উপসাগরে প্রবেশ করেছে।
এর আগের দিন, ১৯ সেপ্টেম্বর, পাঁচটি জাহাজ উপসাগর থেকে কৃষিপণ্য, তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ও সার নিয়ে বের হয়েছে। এ সময় খালি একটি বড় গ্যাসবাহী জাহাজ উপসাগরে প্রবেশ করে।
রয়টার্স জানিয়েছে, ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া সপ্তাহে ২২টি তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বের হয়েছে। এসব জাহাজে মোট প্রায় ৪ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল ছিল। এর মধ্যে সৌদি আরবের অংশ ছিল প্রায় অর্ধেক এবং ইরাকের প্রায় ৩৫ শতাংশ।
সময়ের আলো/কেএইচ