প্রকাশ: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:২৮ এএম
সংগৃহীত ছবিস্লিপ ইন্টার্নশিপ প্রতিযোগিতার বিজয়ী হয়ে তিনি ৯ লাখ ৬০ হাজার রুপি বা ১২ লাখ ৭১ হাজার ২৩১ টাকা জিতেছেন জিনিয়া চ্যাটার্জি নামে মুম্বাইয়ের এক নারী। তিনি টানা দুই মাসের প্রতিযোগিতা শেষে ভারতের স্লিপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। দেশজুড়ে ২ লাখেরও বেশি আবেদন পড়েছিল এ প্রতিযোগিতায়।
গৃহসজ্জা ও আসবাব প্রতিষ্ঠান ওয়েকফিট এ অস্বাভাবিক ইন্টার্নশিপের আয়োজন করে। অংশগ্রহণকারীদের ঘুমকে অগ্রাধিকার দিতে, নিয়মিত ঘুমের সূচি মানতে এবং সৃজনশীল সাপ্তাহিক চ্যালেঞ্জে অংশ নিতে হতো।
২ লাখের বেশি আবেদনকারীর মধ্য থেকে কয়েক দফা বাছাই ও ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকারের পর মাত্র ১০ জনকে নির্বাচিত করা হয়। প্রায় ৬০ দিন তারা নিজেদের ঘুমের মান নথিভুক্ত করেন। দৈনিক স্কোরের ভিত্তিতে লিডারবোর্ডে তাদের অবস্থান ঠিক হতো। তবে প্রতিযোগিতা শুধু পর্যাপ্ত ঘুমের ছিল না। একাধিক অস্বাভাবিক কাজের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের সৃজনশীলতাও দেখাতে হয়েছে।
সাপ্তাহিক কাজের মধ্যে ছিল স্লিপ সিনেমা, যেখানে প্রতিযোগীরা ঘুম-সংক্রান্ত ভিন্নতা যোগ করে বিখ্যাত সিনেমার দৃশ্য নতুন করে তৈরি করেন। আরেকটি চ্যালেঞ্জ স্লিপ বিঙ্গোতে এক সপ্তাহ ধরে নিজেদের ঘুমের অভ্যাস মূল্যায়ন করতে হতো।
একটি বিশেষ অস্বাভাবিক কাজ ছিল আন্ডারকভার স্লিপ মিশন। এতে কথোপকথনের সময় ধরা না পড়ে ১০ বার কম্বল বা বালিশ শব্দ ব্যবহার করতে হতো। প্রতি সপ্তাহের সেরা পারফর্মার সপ্তাহের প্রো স্লিপার উপাধি পান।
দুই মাস পর জিনিয়া চ্যাটার্জি, রত্নগিরি মানিকন্দন ও মেহেক খোট সেরা তিন প্রতিযোগী হিসেবে উঠে আসেন। তবে সবচেয়ে বেশি সাপ্তাহিক সৃজনশীল চ্যালেঞ্জ জেতা হায়দরাবাদের করিম খান ওয়াইল্ডকার্ড হিসেবে ফিরে আসায় ফাইনালে প্রতিযোগী হন চারজন।
বিগ বেড নামের গ্র্যান্ড ফিনালেতে ছিল দুটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রথমটি মেমোরি ফোম চ্যালেঞ্জ। এতে রেফারেন্স ছবি দেখে শোবার ঘরের সাজসজ্জা পুনর্নির্মাণ করে প্রতিযোগীদের পর্যবেক্ষণ, স্মৃতি ও দলগত কাজের পরীক্ষা নেওয়া হয়।
দ্বিতীয়টি স্লিপ অকশন। ফাইনালিস্টদের বালিশ, কম্বল, এয়ার কন্ডিশনার নিয়ন্ত্রণ, আলো ও শব্দের সেটিংসহ ঘুমের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার জন্য নিলামে দর হাঁকতে হয়।
এরপর ফাইনালিস্টরা নিজেদের মতো করে সাজানো ঘুমের পরিবেশে শেষ রাত কাটান। তাদের ঘুমের স্কোরই শেষ পর্যন্ত বিজয়ী নির্ধারণ করে। চ্যাটার্জি ৯ লাখ ৬০ হাজার রুপি এবং ওয়েকফিট-স্পনসর করা ছুটির সফর পান।
২০১৯ সালে শুরু হওয়া স্লিপ ইন্টার্নশিপ প্রথম চার মৌসুমে ১০ লাখের বেশি আবেদন পেয়েছে। এর মধ্যে ৬৫ জন ইন্টার্ন প্রত্যেকে ১ লাখ রুপি করে ভাতা পেয়েছেন।
সূত্র : এনডিটিভি
সময়ের আলো/কেএইচও