জাপানের যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পর দেশটির বিরুদ্ধে ‘অতিরিক্ত সামরিক পদক্ষেপ’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং।
বুধবার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কিম ইয়ো জং অভিযোগ করেন, জাপান ধীরে ধীরে প্রতিরক্ষামূলক সামরিক অবস্থান থেকে সরে গিয়ে আগাম হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জনের পথে এগোচ্ছে।
তিনি বলেন, সম্প্রতি প্রশান্ত মহাসাগরে জাপানের এজিস ডেস্ট্রয়ার চোকাই থেকে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ, অন্যান্য ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা এবং গত মে মাসে ফিলিপাইনে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন যৌথ সামরিক মহড়ায় জাপানের অংশগ্রহণ— এসব পদক্ষেপের জবাব দেবে পিয়ংইয়ং।
কিম ইয়ো জং বলেন, উত্তর কোরিয়া এমনভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, যাতে জাপান অনুভব করে যে তার নিরাপত্তা আরও বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের এমন জবাব দিতে হবে, যাতে তারা অনুতপ্ত হয়।’
বিবৃতিতে কিম ইয়ো জং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তুলে বলেন, ওয়াশিংটন টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ, সেগুলো ব্যবহারের জন্য জাপানের যুদ্ধজাহাজে পরিবর্তন আনা এবং ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় সহায়তা দিয়ে জাপানের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।
তার ভাষায়, ‘জাপানের এমন বিপজ্জনক সামরিক তৎপরতার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রই রয়েছে।’
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে ধারাবাহিকভাবে সমালোচনা করে আসছে উত্তর কোরিয়া।
গত জুলাই থেকে কেসিএনএ অন্তত ছয়টি সম্পাদকীয় ও মন্তব্য প্রকাশ করেছে, যেখানে এই তিন দেশের যৌথ সামরিক কার্যক্রমকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়া জাপানের সামরিক আধুনিকায়নকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে, যাতে নিজেদের অস্ত্র কর্মসূচিকে যৌক্তিক হিসেবে উপস্থাপন করা যায়।
সিউলের ইউনিভার্সিটি অব নর্থ কোরিয়ান স্টাডিজ-এর অধ্যাপক ইয়াং মু-জিনের মতে, কিম ইয়ো জংয়ের বক্তব্যে জাপানের সামরিক পদক্ষেপকে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।
অন্যদিকে কিয়ংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর ফার ইস্টার্ন স্টাডিজ-এর অধ্যাপক লিম ইউল-চুল মনে করেন, এই বক্তব্য ভবিষ্যতে উত্তর কোরিয়ার নতুন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বা সমুদ্রভিত্তিক হামলার সক্ষমতার প্রদর্শনের মতো সামরিক পদক্ষেপের ভিত্তি তৈরি করতে পারে।
সময়ের আলো/কেএইচ