যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার জন্য ইরানকে দায়ী করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার দাবি, তেহরানের কর্মকাণ্ডে জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে জ্বালানি বাজারে। সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
তবে ভ্যান্সের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত শেষ পর্যন্ত সামরিক সমাধানের বদলে কূটনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে শেষ হতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা নাকচ করেননি।
ভ্যান্স বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন এমন অনেক পক্ষের সঙ্গেও আলোচনায় বসতে আগ্রহ দেখিয়েছে, যাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আগের প্রশাসনগুলো সাধারণত আলোচনায় যেতে চাইত না। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতাও ট্রাম্পের হাতে রয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে ভ্যান্সের ভাষ্য, ট্রাম্প সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে একটি চুক্তি চান এবং দ্রুত ইরানের সঙ্গে বিষয়টির সমাধান করতে আগ্রহী। তার মতে, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে যে প্রভাব পড়ছে, সে বিষয়ে ট্রাম্প অবগত।
ভ্যান্স আরও বলেন, আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে, অর্থাৎ প্রায় ছয় সপ্তাহের মধ্যে, বিষয়টির সমাধান করতে চান ট্রাম্প। তবে এত অল্প সময়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো কঠিন হতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা হলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও মন্তব্য করেন ভ্যান্স। এদিকে তেহরানও আলোচনায় ফেরার জন্য কয়েকটি শর্ত জানিয়েছে। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধ বন্ধ, মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং জব্দ করা অর্থ ছাড়সহ কয়েকটি শর্ত দিয়েছে।
অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহান্তে মাত্র ১৭টি পণ্যবাহী জাহাজ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ অতিক্রম করেছে, যেখানে যুদ্ধের আগে দৈনিক গড়ে প্রায় ১২৫টি জাহাজ চলাচল করত।
সূত্র : আল-জাজিরা, রয়টার্স
সময়ের আলো/টিকে