বেশ আগে থেকেই তাকে নিয়ে আলোচনা চলছিল। তিনি আলিফ আরালপ। তুর্কি বংশোদ্ভূত এই নারী জার্মানির বামপন্থি ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট পার্টি বা ডি লিংকের নেতা। তিনি হতে চলেছেন জার্মানির রাজধানী বার্লিনের মেয়র। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচিত হন ভারতীয় বংশোদ্ভূত জোহরান মামদানি। জার্মানির ৪৫ বছর বয়সি আইনজীবী আলিফ আরালপ মার্কিন ডেমোক্র্যাট মামদানির নির্বাচনি প্রচার থেকে অনুপ্রাণিত হন।
সোমবার জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, বার্লিন রাজ্য পার্লামেন্টের নির্বাচনে সমাজতান্ত্রিক দল ডি লিংক সবচেয়ে বড় দল হিসেবে বিজয়ী হওয়ায় দলের প্রার্থী হিসেবে আলিফ আরালপ বার্লিনের মেয়র হওয়ার প্রতিযোগিতায় এগিয়ে আছেন। এতে বলা হয়, বার্লিন নির্বাচনে দলের এমন ফলাফলকে আলিফ আরালপ ‘ঘৃণার বিরুদ্ধে ভালোবাসা ও ন্যায়বিচারের বিজয়’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুসারে, শরণার্থী পরিবারের সদস্য আলিফ বার্লিনের প্রথম নারী মেয়র হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। বিজয় ভাষণে এই বামপন্থি নেতা বলেন, ‘আজ থেকে সবাই মিলে বার্লিনকে বদলে দেব এবং এই মহানগরীকে সবার জন্য বাসযোগ্য করে তোলার চেষ্টা করব।’ ১৯৮১ সালে জার্মানির মিউনিখ শহরে জন্ম নেওয়া আলিফ আরালপের মা-বাবা ছিলেন তুর্কি শরণার্থী। তিনি তার বিজয় ভাষণের বেশিরভাগ অংশ জার্মান ভাষায় বললেও, তুর্কিতে সদর্পে ভক্তদের উদ্দেশে বলেন, ‘বন্ধুরা, আমরা ইতিহাস গড়েছি।’
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, বার্লিন নিয়ে বামদের ‘বড় পরিকল্পনা’ আছে। বিশেষ করে দলটি বার্লিনের আবাসন সমস্যা দূর করতে চায়। বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর হাত থেকে আবাসন ব্যবস্থাকে উদ্ধার করতে চায়। তবে বার্লিনের মেয়র ও রাজ্য সরকারের প্রধান হতে আলিফ আরালপের দলকে অন্য দলের সঙ্গে জোট বাঁধতে হবে।
মধ্য-বামপন্থি সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এসপিডি) ও পরিবেশবাদী গ্রিন পার্টির সঙ্গে ডি লিংকের ক্ষমতা ভাগাভাগির সম্ভাবনা বেশি বলেও প্রতিবেদনটিতে জানানো হয়। সোমবার ফ্রান্সভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইউরোনিউজ বার্লিনের এক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনফ্রাটেস্ট ডিম্যাপের বরাত দিয়ে জানায়, বার্লিনে ডি লিংক ২৫ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে।
ক্ষমতাসীন ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে। উগ্র ডানপন্থি আলটারনেটিভ ফুর ডয়েচল্যান্ড (এএফডি) ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ ও গ্রিন পার্টি ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট পেয়ে যথাক্রমে তৃতীয় ও চতুর্থ অবস্থানে আছে। ডি লিংক একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সরকার গড়তে এসব কোনো একটি দলের সমর্থন প্রয়োজন।
সময়ের আল/ইউএমএইচ