রাশিয়ার সাধারণ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ী হয়েছে ভ্লাদিমির পুতিনের দল ক্ষমতাসীন ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টি। স্থানীয় সময় সোমবার ভোরে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ২০২২ সালে মস্কো ইউক্রেনে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করার পর এটি ছিল রাশিয়ার প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচন।
তার পর থেকে এ যুদ্ধ এখনও চলছে। রাশিয়ায় ভোট চলাকালেও ইউক্রেন দেশটিতে ধারাবাহিকভাবে সাইবার হামলা ও ড্রোন হামলা চালিয়ে গেছে। ইউক্রেন যুদ্ধের বিরোধিতা করে এমন কোনো দলকে রাশিয়ায় এবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। ভোটের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে রাশিয়ার সুপ্রিম কোর্টের আদেশে যুদ্ধবিরোধী ইয়াবলোকো পার্টির প্রতীক ব্যালট থেকে বাদ দেওয়া হয়।
রাশিয়ার দখল ও সংযুক্ত করা ইউক্রেনের ভূখণ্ডগুলোতেও এবার ভোট হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউক্রেন যুদ্ধকে ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাত বলা হচ্ছে। রুশ সংবাদ সংস্থাগুলোয় প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, ৭১ শতাংশের কিছু বেশি ভোট গণনা শেষে ইউনাইটেড রাশিয়া ৫৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে।
কমিউনিস্ট পার্টি এবং এলডিপিআর যথাক্রমে ১৪ শতাংশ ও ৮ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে। এর আগে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসের পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল, ক্ষমতাসীন দলটি স্টেট ডুমার (রাশিয়ার পার্লামেন্ট) ৪৫০টি আসনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার পথে রয়েছে। এর ফলে দলটি সংবিধান সংশোধন করতে পারবে। তারা সোমবার সকালে ভোটের আনুষ্ঠানিক ফলাফল আসার আভাসও দিয়েছিল।
এদিকে রুশ কর্মকর্তারা বলেছেন, গত রোববার ভোটগ্রহণের শেষ দিনে ইউক্রেন মস্কো ও এর আশপাশের অঞ্চলগুলোয় দফায় দফায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এতে দুজন নিহত হয়েছেন এবং একটি তেল শোধনাগারে আগুন ধরে যায়। রোববার ইউক্রেনের ড্রোন হামলার বিষয়ে মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর মস্কোর ওপর এটিই ছিল ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় হামলা। এতে প্রায় ১ হাজার ৬০০টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়, যার মধ্যে ৪৫০টি হামলা সরাসরি রাজধানী মস্কোকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে।
এর জবাবে কিয়েভে আরও ‘তীব্র’ হামলা করার হুমকি দিয়েছে রাশিয়া। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ‘রুশ নাগরিকদের গণতান্ত্রিক ইচ্ছাকে ব্যাহত করার’ চেষ্টা করার অভিযোগ করেছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘রাশিয়ার ভেতরে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে কিয়েভ সরকারের হামলার জবাবে রুশ সেনাবাহিনী কিয়েভে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে উচ্চ নির্ভুলতার সঙ্গে হামলা চালিয়ে যাবে এবং হামলা আরও তীব্র করবে।’
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এসব হামলার প্রশংসা করে বলেছেন, ‘গত রাতে মস্কো অঞ্চলে আমাদের দূরপাল্লার পাল্টা হামলার খুবই উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েছে।’
যুদ্ধ অবসানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো হলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোয় দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা বন্ধ করা যায়নি; বরং তা আরও বেড়েছে। দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেই জেলেনস্কি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। ট্রাম্প কিয়েভকে রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোয় হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিয়ভ জানিয়েছেন, রোববার দুটি পৃথক স্থানে হামলায় অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন— একজন ৪৪ বছর বয়সি নারী ও একজন বয়স্ক পুরুষ।
ক্রেমলিন নির্বাচনের এই ফলাফলকে পুতিনের নীতি এবং ইউক্রেন যুদ্ধের প্রতি জনগণের সমর্থনের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ যুদ্ধ এখন চতুর্থ বছর শেষ করে পঞ্চম বছরে গড়িয়েছে এবং শিগগিরই শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ